Saturday , 19 June 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » অপরাধ ও দূর্নীতি » জামানতের চেক-স্টাম্প ও বেতন না দেয়ার অভিযোগ বরগুনায় এনজিওর নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে
জামানতের চেক-স্টাম্প ও বেতন না দেয়ার অভিযোগ বরগুনায় এনজিওর নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে

জামানতের চেক-স্টাম্প ও বেতন না দেয়ার অভিযোগ বরগুনায় এনজিওর নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে

এম আর অভি, বরগুনা প্রতিনিধি: জামানতের চেক-স্টাম্প ফেরৎ ও বেতন-ভাতা না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনার স্থানীয় এনজিও প্রত্যাশা দারিদ্র বিমোচন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবুল বাসারের বিরুদ্ধে । ২ খানা ব্লাংক চেক, ৩ খানা ১শ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্টাম্প ও ১১ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করায় প্রত্যাশা দারিদ্র বিমোচন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঐ সংস্থার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. আল-আমীন ।
গত ১৩ এপ্রিল বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ২৪ এপ্রিল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন আল-আমীন ।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সদর উপজেলার ছোট লবণগোলা গ্রামের আল-আমীন আইটি কাম-একাউন্ট অফিসার পদে যোগদান করেন স্থানীয় এনজিও প্রত্যাশা দারিদ্র বিমোচন উন্নয়ন সংস্থায়। ঐ সংস্থার নিয়মানুযায় চাকুরীতে যোগদান কালীন সময় আল-আমীন তার স্বাক্ষরীত নিজ নামীয় ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লি: বরগুনা শাখার ০২-০১-১২৬০০০০০৩৩৬ নং হিসাবের ৯৫৭৮৬১৮ ও ৯৫৭৮৬১৯ নম্বরের ২ খানা অলিখিত (ব্লাংক) চেক এবং ৩ খানা ১শ টাকার নন-জুডিসিয়াল অলিখিত স্টাম্প জামানত হিসেবে প্রত্যাশা দারিদ্র বিমোচন উন্নয়ন সংস্থায় জামানত হিসেবে জমা রাখেন।
পরে গত ২০১৯ সালের ফ্রেরুয়ারী মাসে আল-আমিনকে ঐ সংস্থায় ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। নিয়মিত অফিস করেও সংস্থার কাছে ১১ মাসের বেতন-ভাতা পাওনা থাকে আল-আমীনের। ঠিকমত বেতন না পাওয়ায় ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. আল-আমীন আর এ সংস্থায় চাকুরী করবেনা বলে মৌখিকভাবে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবুল বাসারকে জানান এবং জামানত রাখা ২ খানা ব্লাংক চেক, ৩ খানা ১শ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্টাম্প ও ১১ মাসের বেতন-ভাতা ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা বুঝিয়া চায়।
কিন্তু সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবুল বাসার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আল-আমীন এর জামানত রাখা চেক, স্টাম্প ফেরৎ ও ১১ মাসের বেতন-ভাতা ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা পরিশার করতে গড়িমসি করে ঘুরাতে থাকে । তাই সংস্থায় জামানত হিসেবে জমারাখা চেক ,স্টাম্প ও বেতন টাকা পাওয়ার জন্য প্রত্যাশা দারিদ্র বিমোচন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবুল বাসারের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে তিনি পৃথক-পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী আল-আমীন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকে জানান,০১৭১৩৯৫৯৪৮৩ প্রত্যাশা দারিদ্র বিমোচন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবুল বাসার সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে রেজিস্টেশন নিয়ে বেশি সুদে দৈনিক ভিত্তিতে ঋন কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি প্রতিষ্ঠানের চেক জমা রেখে চড়া সুদে টাকা এনে শহরের বিবি রোডে অফিস নিয়ে এনজিও পরিচালনা করত ও শিক্ষা প্রকল্প আনতে প্রচুর টাকা ব্যয় করতেন । এতে এনজিওটি ক্ষতি মুখে পরে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও জানান, সংস্থায় জামানত রাখা আমার চেক ও স্টাম্প বেতন -ভাতা ফিরে পেতে আমি প্রশাসনের সহযোগীতা চাই।
এর পূর্বে প্রত্যাশা দারিদ্র বিমোচন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবুল বাসারের বিরুদ্ধে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখা থেকে ২৪ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ির নামে তোলা কৃষি ঋনের ১২লাখ টাকা জামিনদার (গ্রান্টার ) হয়ে আৎসাতের অভিযোগ উঠেছে।
ব্যাংক সূত্রে জানাগেছে, ২০১৪ সালের দিকে বরগুনা সদরের বাসার ষ্টোর ,কোওড়াবুনিয়া ,আশাখালী প্রোপাইটার আবুল বাসার এর স্বাক্ষরিত জামিনদার (গ্রান্টেড) রেখে শহরের ২৪ ব্যবসায়ি গ্রাহক হয়ে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড বরগুনা শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা কৃষি ঋন উত্তোলন করেন। যা বর্তমানে সুদে-আসলে প্রায় ১৯ লাখে পরিণত হয়েছে। সময় মত লোন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঐ কৃষি ঋন গ্রহিতা ২৪ ব্যবসায়িকে গত ১০ মার্চ দ্বিতীয় বারের মত নোটিশ দিয়েছেন উত্তরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ।
ব্যাংকের নোটিশ প্রাপ্ত ব্যবসায়ী মো. শাহিন প্রতিবেদকে জানান, কোন ধরনের কৃষি ঋন আমরা ওই উত্তরা ব্যাংক থেকে উত্তোলন বা গ্রহন করিনি। শহরের বাসার স্টোর এর মালিক (প্রত্যাশা সমবায় সমিতির) সভাপতি আবুল বাসার আমাদের বাইনাতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের নিয়ে পূর্বে একটি সমিতি করেছিল । সে সমিতিতে আমাদের ব্যবসায়িদের জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার কার্ড) ও ছবি জমা থাকত। এ ব্যবসায়িদের দাবী সেসব কাগজপত্র জমা দিয়ে আমাদের স্বাক্ষর জ্বাল করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজোশে এ কৃষি ঋন উত্তোলণ করেছে আবুল বাসার।
ব্যাংকের নোটিশ প্রাপ্ত অন্য এক ব্যবসায়ী মো.জহিরুল জানান, উত্তরা ব্যাংক থেকে আমি কোন কৃষি ঋন উত্তোলন বা গ্রহন করিনি । বাসার স্টোর এর মালিক (প্রত্যাশা সমবায় সমিতির) সভাপতি আবুল বাসার আমাদের বাইনাতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি সমিতির ক্যাশিয়ার ছিল করেছিল। সে সমিতিতে আমার জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার কার্ড) ও ছবি জমা থাকত । আমার স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাযোসে তিন দিনের ব্যাবধানে বাসার গ্রান্টর হয়ে একই ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার করে ১০ ও ১৩ তারিখ দুটি কৃষি ঋন তুলেছে।
প্রত্যাশা দারিদ্র বিমোচন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবুল বাসারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকে মুঠোফোন জানান মো. আল-আমীন আমার সংস্থার টাকা আৎসাত করেছে। আৎসাতের টাকা পরিশোধ করতে সে আমাকে ৪০ লাখ টাকার চেক দিয়েছে। তিনি আরও জানান ,আমার কাছে তার জামানত রাখা কোন চেক ও স্টাম্প নেই।
বরগনা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকে বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ঐ সংস্থার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*