Saturday , 24 July 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » উপজেলার খবর » অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খোকসা কুমারখালী আওয়ামীলীগ!
অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খোকসা কুমারখালী আওয়ামীলীগ!

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খোকসা কুমারখালী আওয়ামীলীগ!

আকরামুজ্জামান আরিফ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: 

 কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আওয়ামীলীগের কোন্দল তৃণমূলে ছড়িয়ে পড়েছে। অব্যহত ভাবে ঘটছে খুন, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, হামলা, লুটপাট, ভাঙচুরের ঘটনা। সর্বশেষ শিপন (৩৫) নামে এক আওয়ামীলীগ কর্মী প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছে। নিহত শিপন পেশায় একজন ডেকোরেটর ব্যবসায়ী। সে উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পিতম্বরবশী গ্রামের ইউপি আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেনের ছেলে।নিহতের স্বজনরা দাবি করেন এলাকায় আওয়ামীলীগের ২ গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শিপকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ।কুমারখালী থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রোববার সকালে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। দুপুরের ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন জানায়, পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনের নেতৃত্বে কবির, মিজান, বাবলু, ময়েন গং শনিবার রাত আনুমানিক ১১ টায় শিপনকে গোদের বাজার থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে কবিরের বাড়ির পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের উপর কোপ মারে। আলতাফ হোসেন আরো বলেন, মোবাইলে খবর পেয়ে কুপিয়ে আহত শিপনকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেলে বাড়ি ফিরে আসি।এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর গ্রুপের সাথে পান্টি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন গ্রুপের বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের জেরেই শনিবার রাতে জাফর গ্রুপের কর্মি শিপন খুন হন।কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, এলাকায় আধিপত্যকে কেন্দ কর্রে জাফর ও সুমন গ্রুপের বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শিপন খুন হয়েছে। লাশ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য :- গত বছর ৬ জুলাই এই এলাকায় জাফর ও সুমন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিতে বিল্লাল হোসেন নামের এক বৃদ্ধ মারা যায়। সে সময় পুলিশ প্রায় ১‘শ রাইন্ড গুলি ছোড়ে।উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান খান পন্থীদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের বিরোধের জের ধরে দলের ভেতরে কোন্দল বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় অনেকেই। একের পর এক সংঘর্ষ, হামলা, ভাংচুর, মামলা, লুটপাটে জর্জরিত হয়ে পড়ছে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।সম্প্রতি সোহেল রানা লেনিন (৩৮) নামের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। লেনিন উপজেলার চাপাইগাছির কুদ্দুুসের (সাবেক মেম্বর) ছেলে এবং জগন্নাথপুর ইউপি সভাপতি ফারুক আহমেদ খানের আত্মীয়। ফারুক আহমেদ খান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান খানের ভাতিজা। আর সাধারণ সম্পাদক ফারুক আজম হান্নান এমপি ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জের লোক হিসেবে পরিচিত। গত ১৯ এপ্রিল সাধারণ সম্পাদক ফারুক আজম হান্নানের ওপর হামলা হয়। এর আগে ২৮ এপ্রিল উপজেলার বাগুলাট ইউপির শালঘর মধুয়য়া আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বেশ কয়েক জন আহত হন। 
এছাড়া গত ৮ এপ্রিল খোকসার  কোমরভোগে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। লুটপাট ও ভাঙচুর চলে বেশ কিছু বাড়িতে। গত ১৭ মে নন্দলারপুর ইউপির দরিকোমলপুরে আওয়ামীলীগের বর্তমান ও সাবেক দুই মেম্বর আতর আলী ও ওয়াদুদ শেখ গ্রূপের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ২২ মার্চ চর সাদীপুর ইউপি আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আতাউল হককে নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে। আতাউল হক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। এর ফলে সেখানে কোন্দল জোরালো হয়েছে। গত ৬ই মার্চ কুমারখালীতে আওয়ামীলীগের এক বর্ধিত সভা কোন্দলের কারণে পন্ড হয়ে গেলে দলীয় গ্রুপিং প্রকাশ্যে চলে আসে। বর্তমানে কুমারখালীতে আওয়ামীলীগের মধ্যে দুইটি পক্ষ দৃশ্যমান। এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী পৌর মেয়র শামনুজ্জামান অরুণ চাচা ভাতিজা এক পক্ষ হওয়ার কারনে ও একই পরিবারের হওয়ায় অধিকাংশ নেতা কর্মি তাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আবার দ্বিতীয় পক্ষের মধ্যেও গ্রুপিং সব ইউনিয়নে বেশ জোরালো। গত দুই বছর দলের মধ্যে কোন্দল বেড়ে যাওয়ার জন্য উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান খান পন্থীদের সঙ্গে সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ পক্ষকে দায়ী করছেন দলের অনেক নেতাকর্মী। তারা বলছেন, এলাকার বালু মহাল, হাট, ঘাট ও ঠিকাদারী কাজের কর্তৃত্ব, স্থানীয় নির্বাচন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ নিয়েই মূলতঃ কোন্দলে জড়াচ্ছে তারা।কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর বলেন, এমপির সঙ্গে আওয়ামীলীগের কোন সমন্বয় নেই। এমপি অনেক বড় ব্যাপার, তার কাছেই সরকারের সব বরাদ্ধ আসে। এখন এমপি যদি দলের লোকদের কাছে টেনে না নেন, তাহলে সমস্যা হবেই। আর এ কারণেই দলের মধ্যে কোন্দল বাড়ছে। এতে দল ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা নেতাদের এখনই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।কুমারখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান বলেন, দলে হাইব্রিডদের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। এর জন্য দায়ী এমপি। তার দাবি, এমপি দলের নেতাকর্মীদের খোঁজ রাখেনা, হাইব্রীডদের নিয়ে চলেন। এ কারণে ত্যাগীরা নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে।তবে এমপি ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাব জর্জ এসব অভিযােগ অস্বীকার করে বলেন, দলের মধ্যে ছোটখাট ঝামেলা থাকবেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার কারো সঙ্গে কোন বিরোধ নেই। আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমন করে কথা বলতে চাই না। যারা ব্যক্তি স্বার্থে দলকে ব্যবহার করছে তারা দলের পদ হারিয়ে ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হবে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে চাই না। কেবল একটি কথা বলব, সেটি হল, যে যেমন কর্ম করবেন সে তেমন ফল পাবেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির সঙ্গে সাংসদের বিরোধের জেরে দলের ভেতরে কোন্দল বাড়ছে। ফলে সংঘর্ষ, হামলা, ভাংচুর, মামলা, লুটপাটে জর্জরিত হয়ে পড়ছে নেতাকর্মীরা। এই বিরোধের অবসান চায় এলাকার সাধারণ শান্তি প্রিয় মানুষ।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*