Saturday , 24 July 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » আইন ও আদালত » কারাবন্দি বাবুল, দুই নাতিকে কাছে রাখতে নানার মামলা
কারাবন্দি বাবুল, দুই নাতিকে কাছে রাখতে নানার মামলা
--ফাইল ছবি

কারাবন্দি বাবুল, দুই নাতিকে কাছে রাখতে নানার মামলা

অনলাইন ডেস্ক:

সালটা ২০১৬, তারিখটা ৫ জুন। সাতসকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে হেঁটে সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় তিন মোটরসাইকেল আরোহী মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অচেনা তিনজনের নামে মামলা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে পাল্টে যায় এ হত্যাকাণ্ডের চিত্রনাট্য। এক পর্যায়ে বাবুল আক্তারের নামে উল্টো হত্যা মামলা করেন মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন। বর্তমানে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ফেনী কারাগারে বন্দি রয়েছেন বাবুল আক্তার।

kalerkanthoপরে মিতুর লাশ দাফন করা হয় ঢাকার খিলগাঁওয়ে। ওই সময় থেকেই দুই সন্তানকে নিয়ে বাবুল আক্তার খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি ছিলেন। ২০১৬ সালের ২৫ জুন নাটকীয়ভাবে বাবুল আক্তারকে ঢাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই দিন তিনি চাকরির পদত্যাগপত্রে সই করেন। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে এসপি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর তিন মাসের মতো তিনি শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। এর মধ্যেই নানা সূত্রে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন খবর পেতে থাকেন এ হত্যার সঙ্গে বাবুল আক্তারই জড়িত। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের চিড় ধরতে শুরু করে। এক পর্যায়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবুল আক্তার অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে চলে যান। বাবুল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক হিসেবেও বেশ কিছুদিন কাজ করেন। এরপর তিনি পানির ব্যবসা শুরু করেছিলেন।

গত ১১ মে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রামে ডেকে পাঠানো হয়। ১২ মে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারার কারণে সন্দেহজনক হত্যাকারী হিসেবে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ১৩ মে তাঁর শ্বশুর মোশারফ হোসেন চট্টগ্রাম গিয়ে নতুন একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে পুলিশ রিমান্ডে নেয়।

মিতু হত্যার পর ওই বছরের জুনে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে তিনজন চট্টগ্রামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি দিয়ে ওয়াসিম নামের এক আসামি জানিয়েছিলেন, মুছা, নূরুন্নবী, কালু ও তিনি মিতু হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। মুছা মিতু হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী। এরপর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহকারী এহতেশামুল হক ভোলা। পরে ভোলার সহযোগী মনিরের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। এই পিস্তল দিয়েই মিতুকে গুলি করা হয়েছিল বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। ওই সময় কথিত বন্দুকযুদ্ধে রাশেদ ও নূরন্নবী নিহত হয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর মুছাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মুছার স্ত্রী এমন দাবি করলেও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ওই সময় মুছাকে গ্রেপ্তারের তথ্য স্বীকার করেনি। এখন পর্যন্ত মুছার হদিস পায়নি পুলিশ।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। তারা প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার দেওয়া হয় পিবিআইকে।

কারা সূত্র জানায়, গত ২৯ মে সকালে পুলিশের কড়া পাহারায় তাঁকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফেনী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে গত ১৭ মে দুপুরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহানের আদালত বাবুল আক্তারকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ১৩ মে একই আদালত মিতু হত্যা মামলায় মিতুর স্বামী বাবুল আক্তারকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে তাদের শাস্তি চাই। এ ছাড়া বাবুল আক্তার আমার মেয়ের হত্যাকারী জেনেও যারা তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছে তাদেরও আইনের আওতায় আনার আবেদন জানাচ্ছি।’

এদিকে মিতুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

নাতিদের পেতে মামলা: বাবুল আক্তার-মাহমুদা খানম মিতু দম্পতির ছেলে মাহির ও মেয়ে টাপুরকে নিজেদের কাছে পেতে গত ১৯ মে এডিএম কোর্টে মামলা করেন মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন। ওই মামলায় বাবুল আক্তারের মা-বাবা, দুই ভাই, বাবুল আক্তারের বর্তমান স্ত্রীকে বিবাদী করা হয়েছে। ১৯ মে আবেদন করার পরপরই এডিএম কোর্ট থেকে বাবুল আক্তারের দুই ঠিকানায় সার্চ ওয়ারেন্ট পাঠিয়ে ৩১ মে তাদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ৩১ মে তাঁরা কেউ-ই আসেননি। এ অবস্থায় নতুন করে আবারও আগামী মঙ্গলবার আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাঁদের ঠিকানায় সমন পাঠানো হয়েছে।

মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা মনে করি আমার নাতি-নাতনিকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। তাদেরকে আমাদের কাছে এনে রাখতে চাই। ওরা দুজন আমাদের খুব আদরের।’

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*