Saturday , 31 July 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » কুষ্টিয়ায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা।। গ্রেফতার ২
কুষ্টিয়ায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা।। গ্রেফতার ২

কুষ্টিয়ায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা।। গ্রেফতার ২

 কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: 

কুষ্টিয়ার খোকসায় মাছ চুরির অভিযোগে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার খোকসা ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে এ ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম জসিম শেখ (৩৫)। তিনি ওই গ্রামের রওশন আলী শেখের দিনমজুর ছেলে। এঘটনায় নিহতের ভাই হাসেম শেখ বাদী ওইদিন বিকেলেই খোকসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব আলী বিশ্বাস, তার স্ত্রী জায়েদা, তিন ছেলে তানজির বিশ্বাস, তানভীর বিশ্বাস, জুমেজো বিশ্বাস এবং ভাতিজা সালাউদ্দিনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা নং ৬, তাং – ১৫ /০৬/ ২০২১।
পুলিশ চেয়ারম্যানের স্ত্রী জায়েদা ও ভাতিজা সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।চেয়ারম্যানসহ বাকী আসামীরা পলাতক রয়েছে।
নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, রতনপুর বিলে বেশ কয়েক বিঘা জমির পুকুরে চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর মাছ চাষ রয়েছে। রাতে মাছ চুরির অপরাধে জসিমকে ফোন করে ডেকে নেয় চেয়ারম্যানের লোকজন। 
পরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে পিটানো হচ্ছে। এমন খবর পেয়ে তারা চেয়ারম্যান বাড়িতে যান। গিয়ে তারা দেখেন, জসিম মুমূর্ষু অবস্থায় উঠানে পড়ে আছে। সেখানে চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের তিন ছেলে, ভাতিজা, পুলিশ ও অনেক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। 
এসময় জসিম শুধু পানি পানি আর মা মা করছিল। গ্রামের এক মহিলা পানি পান করান এবং পুলিশ একটি ভ্যানযোগে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ভ্যানে দড়ি দিয়ে বেঁধে খোকসা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী আছিয়া খাতুন বলেন, রাতে খেলা দেখতে বাড়ির বাইরে যায় জসিম এবং রাতেই বাড়ি ফিরে আসে। এরপর ফজরের আযানের আগ মূহূর্তে খেচুরি খাওয়া জন্য একটি ফোন আসে। ফোন পেয়ে তিনি বাড়ির বাইরে গিয়ে আর ফিরেনি। এরপর ভোরে শুনতে পায় চেয়ারম্যান ও তার ছেলেরা খুঁটিতে বেঁধে পেটাচ্ছে। 
তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর কারো সাথে কোন ঝামেলা ছিলোনা। সে মাঝেমাঝে মাছ ধরত। কিন্তু সে চোর নয়।
নিহতের ভাই আসলাম আলী শেখ বলেন,  ভোর ৫ টার দিকে স্থানীয় মেহেদী নামের এক ব্যক্তি তাকে ফোনে জানায় জসিমকে চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বিশ্বাস, তার তিন ছেলে তানজির বিশ্বাস, তানভীর বিশ্বাস, জুমেজো বিশ্বাস ও ভাতিজা সালাউদ্দিন, জিকু তাদের বাড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে মারপিট করছে। সংবাদ পেয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পায় মারাত্মক আহত অবস্থায় উঠানে পড়ে আছে।
তিনি আরো বলেন, এসময় আমার ভাই পানি পানি করছিল। এরপর আমি একটু পানি দিই। সে আবারো পানি পানি করছিল। আমি আবারো পানি খাওয়ায়। তখনও যদি আমার ভাইকে হাসপাতালে নিত, তাহলে সে বাঁচে যেত বলে জানান নিহতের ভাই আসলাম।
নিহতের আরেক ভাই হাসেম শেখ বলেন, আমি মেম্বর প্রার্থী। আমাকে দাবিয়ে রাখার জন্য চেয়ারম্যান লোকজন দিয়ে ভাইকে হত্যা করেছে। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক কারনে আমার ভাইকে মারার প্লান ওদের অনেক আগেই ছিল।
চেরের খবর পেয়ে খুব সকালে চেয়ারম্যান  বাড়িতে যায় রতনপুর গ্রামের মৃত মুন্তাজের ছেলে মুন্নাফ। তিনি বলেন, খবর পেয়ে চেয়ারম্যান বাড়িতে এসে দেখি পুলিশ, চেয়ারম্যানসহ অনেক লোক। আর জসিম মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝেমাঝে শুধু বলছে পানিই পানিই, মা- আ, মা- আ। 
তিনি আরো বলেন, এরপর চৌকিদার রাকিব কাঁধে তুলে ভ্যানের উপর নেয়। এসময় নানান লোক নানান কথা বলছিল। পরে পুলিশ বলে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলতে। পরে চৌকিদার আর ভ্যানচালক বাঁধে ফেলে জসিমকে। এসময় জসিম দুইবার ঝাঁকি মারে উঠে।
 ওই গ্রামের মোঃ সুমন বলেন, সোমবার রাতে চেয়ারম্যানের পুকুর থেকে মাছ চুরির অভিযোগে জসিমকে ডেকে চেয়ারম্যানের পাকা বাড়ির উঠানের পাশে খুঁটিতে বেঁধে পেটায়। এতে জসিম মারাত্মক আহত হয়। পরে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যুর খবর পায়।
চেয়ারম্যান পাড়ার আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী জবেদা খাতুন বলেন, সকালে শুনলাম ওই বাড়ি চোর ধরেছে। তারপর গিয়ে দেখি ওই ছেড়া (জসিম) আছারি বিছারি (মাটিতে গড়াগড়ি)  করছে। মারাটারা দেখি নাই। খালি পানি পানি করছে। এরপর দুইবার পানি দিলাম, ও (জসিম) খালো (পান করল)।
তিনি আরো বলেন, ওতো চোর না। মাছ একজন ধরতে পারে। তাই বলে পিটিয়ে মারা ঠিক হয়নি।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)  ডা: প্রেমাংশ ঘোষ বলেন, অজ্ঞান অবস্থায় সকাল ৬ টা ৩৫ মিনিটে একজন চৌকিদার (গ্রাম পুলিশ) জসিমকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করি। চিকিৎসা শুরুর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 
তিনি আরো বলেন, তার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের মারাত্মক চিহৃ ছিল।
 খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, মাছ চুরির সন্দেহে চেয়ারম্যান আইয়ুবের বাড়িতে জসিমকে পিটানো হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে খোকসা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ডের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরো বলেন, মামলা হয়েছে। এঘটনায় চেয়ারম্যানের স্ত্রী জায়েদা ও ভাতিজা সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় কোন চুরির মামলা নেই।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*