Saturday , 31 July 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » বাথরুম থেকে কাজের মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বাথরুম থেকে কাজের মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি বাসার বাথরুম থেকে রাহিমা (১২) নামের এক কাজের মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২১ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১২টায় পশ্চিম পাইকপাড়া বোর্ডিং মাঠের দক্ষিনপাশের ৩য় তলার রওশন আলীর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

রাহিমা উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ভাটপাড়ায় মায়ের সাথে নানার বাড়িতে থাকতেন। রাহিমা সিলেট জেলার মৃত গোলাপ রব্বানীর মেয়ে। রাহিমা পাইকপাড়ার রওশন আলীর বাড়িতে কাজ করতেন।

এদিকে রাহিমার মৃত্যুর খবরে এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হয়। এলাকাবাসী ও পরিবারে দাবি রাহিমাকে খুন করা হয়েছে। 

নিহত রাহিমার পরিবারের সদস্যরা জানায়, আমাদের পরিবারে অভাব-অনটনের কারণে ১২ বছর বয়সে রাহিমাকে শহরের পাইকপাড়ার রওশন আলীর বাসায় কাজে পাঠিয়ে দেয়। বছরে দুই বার করে রাহিমাকে বাড়িতে আসলেও গত ৬মাসে তাকে বাড়িতে আসতে দেয়নি রওশন আলীর স্ত্রী। প্রায়ই
রাহিমাকে তিনি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারধোর করতেন।

কয়েকদিন আগে রাহিমাকে মারধোর করায় সে রাগ করে নানুর বাড়িতে। মায়ের কাছে চলে আসে। পরে রওশন আলী গিয়ে আবার রাহিমাকে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে সোমবার রাতে তাদের নিকট খবর আসে রাহিমা নাকি বাথরুমে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

রাহিমার মায়ের অভিযোগ, ওই বাসা মালিক রওশন আলীর স্ত্রী রাহিমাকে প্রায়ই মারধোর করতেন৷ এসব করে বলে রাহিমাকে আমরা বাড়িতে নিয়ে আসবো বলে বাসার মালিক রওশন আলীকে জানিয়ে ছিলাম। একারনেই রাহিমাকে খুন করে লাশ ফাঁসিতে ঝুলে রেখেছে বলে তাদের দাবি।

এলাকাবাসীর দাবি, রাহিমার সাথে যাই হোক না কেন তার সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। তা না হলে এ রকম অনেক রাহিমাকে প্রভাবশালীদের লালসা কিংবা শারীরিক মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে অকালে প্রান দিতে হবে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এমরানুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে লাশ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছি। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর বুঝা যাবে হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*