Tuesday , 27 July 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » মিথ্যাচার দিয়ে কি ইতিহাস তৈরি হয়
মিথ্যাচার দিয়ে কি ইতিহাস তৈরি হয়
--ফাইল ছবি

মিথ্যাচার দিয়ে কি ইতিহাস তৈরি হয়

অনলাইন ডেস্ক:

কবি জীবনানন্দ দাশ একবার তাঁর একটি কবিতায় সমালোচকদের বলেছিলেন, ‘বরং নিজেই তুমি লেখোনাকো একটি কবিতা—/বলিলাম ম্লান হেসে; ছায়াপিণ্ড দিল না উত্তর।’ অর্থাৎ যাঁরা কবির কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করেছিলেন, তিনি তাঁদের ওই রকমই একটি কবিতা লেখার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। তাঁরা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেননি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বিএনপি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে চেষ্টা করছে জিয়াউর রহমানকে তাঁর স্থানে বসানোর। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার। তাদের চেষ্টা সফল হয়নি। জীবনানন্দের ভাষায় বলতে হয়, ‘বরং নিজেই তুমি kalerkanthoলেখোনাকো একটি ইতিহাস।’ সেই ইতিহাস তারা লিখতে পারেনি। তাকে বিকৃত করেছে। বিএনপির সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল একজন শিক্ষিত লোক। অধ্যাপনা করেছেন। তারপর রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি তাঁর দলের বাবরদের (সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) মতো অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তি নন। বাবরেরা ইতিহাস-ভূগোলের ধার ধারেননি। অবিরাম মিথ্যা বলেছেন। মির্জা ফখরুলের আওয়ামী লীগের সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার আছে। কিন্তু ইতিহাস বিকৃত করার কোনো অধিকার নেই। ইতিহাস বিকৃত করতে গিয়ে এবং একজন খলনায়ককে মহানায়কের পদে বসাবার চেষ্টা করতে গিয়ে আজ বিএনপির এই দুরবস্থা। বিএনপিকে তিনি যদি আবার খাড়া করতে চান, তাহলে ‘বিলাতের ওহি’ দ্বারা পরিচালিত না হয়ে দেশে যে সহযোগী নেতারা আছেন তাঁদের নিয়ে বসুন। দলের গণতান্ত্রিক নীতি নির্ধারণ করুন। স্বাধীনতার শত্রুদের কাছ থেকে সরে আসুন। জনগণ একটি গণতান্ত্রিক বিরোধী দল চায়। বিএনপি হয়তো সেই আশা পূর্ণ করতে পারবে। অন্যথায় মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক নীতি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নামে চালু করতে গিয়ে তারা ক্রমেই দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে সরে যাবে। কারণ এই তরুণ প্রজন্ম এখন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে। গত এক বছর ধরে মুজিববর্ষ পালন উপলক্ষে তাদের সামনে যেসব সত্য তুলে ধরা হয়েছে তাতে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানো আর সম্ভব হবে না।

বিএনপিকে খাড়া করতে হলে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের গত ৪০ বছরের অনাচার-অত্যাচার ও শোষণ-পীড়নের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। এই ক্ষমাটা চেয়েছিলেন ভারতের কংগ্রেসের নেতা রাজীব গান্ধী নির্বাচনে জেতার পর। তিনি স্বীকার করেছিলেন, ‘শিখদের ওপর তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর যে বর্বরোচিত অত্যাচার হয়েছে তার জন্য তাঁর দলও দায়ী। সে জন্য তিনি ভারতের জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের জন্য যেভাবে জাতীয় নেতাদের হত্যা চক্রান্তে সংযুক্ত ছিলেন, ক্ষমতায় এসে যেভাবে কর্নেল তাহেরসহ দেড় হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে নস্যাৎ করে পাকিস্তানি রাজনীতি আবার বাংলাদেশে প্রবর্তন করেছিলেন, স্বাধীনতার এক নম্বর শত্রু গোলাম আযমকে পাকিস্তানি পাসপোর্টসহ দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন, এসব অপরাধের জন্য মির্জা ফখরুলের বিএনপির হয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তারপর তাঁর প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া যেভাবে জাতির পিতার স্মৃতির অবমাননা করার জন্য একটা মিথ্যা জন্মদিন তৈরি করে ১৫ই আগস্টে জাতীয় শোক দিবসে আমোদ-ফুর্তি শুরু করেছিলেন, সে জন্যও জাতির কাছে বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত। ক্ষমা চাওয়া উচিত জিয়াপুত্র তারেক রহমানের অপকর্মের জন্য। ক্ষমতায় আসার আগেই তিনি যেভাবে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের হাওয়া ভবন তৈরি করেছিলেন এবং শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছিলেন, সে জন্য আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়েছেন। এই দণ্ড মেনে নিয়ে তাঁর দেশে আসা উচিত। জেল থেকে খালাস হলে জাতির কাছে তাঁর অপরাধের ক্ষমা চেয়ে একটি রাজনৈতিক দলের নেতার আসনে বসার চেষ্টা করতে পারেন। তার আগে নয়। মির্জা ফখরুল এখন যতই তাঁকে ‘ওহির ফেরেশতা’ বানিয়ে দেশে রাজনীতি করতে চান, তা চলবে না। মুসলিম লীগের চেয়ে তাদের শোচনীয়ভাবে বিলুপ্তি ঘটবে। তাঁরা যদি আশা করে থাকেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে জয়ী হবেন, তাহলে মিথ্যা আশার কুহকে ভুগছেন। একবার ড. কামাল হোসেনের মতো ফসিল নেতাদের ভাড়া করে এনে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছিলেন। তা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী নির্বাচনে তাঁদের প্রকৃত নেতা কে হবেন, তাঁদের নীতি কী হবে তা এখন থেকেই জনগণকে জানতে দিন।

জিয়া পরিবারের ধিকৃত অতীত ও বর্তমানের উত্তরাধিকারী না হয়ে মির্জা ফখরুলের মতো বিএনপির শিক্ষিত নেতারা যদি ঐক্যবদ্ধ হন এবং স্বাধীনতার মূল আদর্শে বিএনপিকে পুনর্গঠন করেন, তাহলে এই দলটির ভবিষ্যৎ আছে। না হলে নেই। বিএনপি রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের বিরোধী দল হিসেবে খাড়া হতে পারত। কিন্তু তাদের সবচেয়ে বড় ভুল, তারা জন্ম থেকেই স্বাধীনতাযুদ্ধের মূল আদর্শের বিরোধিতা করেছে। স্বাধীনতার শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। ইতিহাস তাই তাদের ক্ষমা করেনি। তাদের মূল নেতা খালেদা জিয়া এখন গুরুতর রোগে আক্রান্ত। জানা গেছে, তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত (আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন)। বর্তমান নেতা তারেক রহমানও নানা অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়ে বিদেশে পলাতক। বিএনপির ভেতর থেকেই কেউ কেউ পরামর্শ দিচ্ছেন, তারেকের বদলে তাঁর মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিএনপির নেত্রী পদে বসানো হোক। এটিও একটি ভালো পরামর্শ। জাইমা রহমানকে যতটুকু জানি, একজন ভালো ব্যারিস্টার ও ভালো মেয়ে। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও বুদ্ধি ও দূরদর্শিতা আছে। বিএনপিকে তিনি নতুনভাবে সাজাতে পারবেন। সুতরাং তাঁকে বিএনপির নেতা করার পরামর্শটিও খারাপ নয়। কিন্তু কোনো কারণেই জিয়াউর রহমানের মতো একজন খলনায়কের দেশদ্রোহিতার বোঝা মির্জা ফখরুলদের বহন করা উচিত নয়। সম্প্রতি ঢাকায় এক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় তিনি বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানকে খলনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা হচ্ছে।’ আমি সবিনয়ে তাঁকেই প্রশ্ন করি, জিয়াউর রহমান কি একজন খলনায়ক ছিলেন না? ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতার মূল্যবোধকে তিনি কি ধ্বংস করার চেষ্টা করেননি?

মির্জা ফখরুল কি চান মহাত্মা গান্ধী এবং তাঁর ঘাতক নাথুরাম গডসেকে এক আসনে বসাতে? গান্ধী হত্যার পর নাথুরাম গডসেকে জাতীয় নেতা ঘোষণা করে হিন্দু মহাসভা তাদের নেতার পদে বসিয়েছিল। নেহরু সরকার হিন্দু মহাসভাকে বেআইনি ঘোষণা করে এবং নাথুরাম গডসেকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে। খলনায়ক নাথুরাম গডসেকে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে এক আসনে বসানো সম্ভব হয়নি। আজ ভারতের দল-মত-নির্বিশেষে জনগণ নাথুরাম গডসেকে ঘৃণা করে এবং মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পাঞ্জলি দেয়। ওই সমাধিতে পুষ্পাঞ্জলি দিয়েছেন ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথও। বাংলাদেশেও আজ বঙ্গবন্ধুর সমাধি তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। আর জিয়াউর রহমানের কবরের অবস্থা কী? অনেকে সন্দেহ করেন তাঁর মৃতদেহ ওই কবরে আছে কি না? নাকি চট্টগ্রামের কোনো অজ্ঞাত স্থানে পড়ে রয়েছে? মির্জা ফখরুলরা যতই এক খলনায়ককে নায়কের আসনে বসানোর চেষ্টা করবেন, ততই তাঁরা ব্যর্থ হবেন। ইতিহাস তাঁদের বিরুদ্ধে। এই ইতিহাসও বিকৃত করতে গিয়ে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। মির্জা ফখরুলরা স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস মেনে নিন, জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানান, স্বাধীনতার আদর্শের বিরোধিতা না করে তার ভিত্তিতে দলের নীতি ও নেতৃত্ব নির্ধারণ করুন। তাহলে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হওয়া নয়, আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনৈতিক দল হয়ে উঠতে পারবে।

মির্জা ফখরুল দুঃখ করেছেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে যাঁরা অবদান রেখেছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং জীবন দিয়েছিলেন তাঁরা সবাই আজ আওয়ামী লীগের আমলে উপেক্ষিত।’ মির্জা সাহেব দয়া করে এঁদের নাম বলবেন কি?

স্বাধীনতাযুদ্ধে যাঁরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিনিধি হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই চার জাতীয় নেতার হত্যাকাণ্ডেও জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কয়জন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক নেতা বিএনপিতে ছিলেন তারেক রহমান তাঁদের দল থেকে একে একে বহিষ্কার করেছেন। এবং সেখানে ঘৃণ্য জামায়াতিদের এনে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে যেভাবে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবমাননাকরভাবে তাড়ানো হয় তার দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল। মির্জা ফখরুল কি বলতে চান আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের নেতাদের উপেক্ষা করেছে? বিএনপি তাঁদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, হাসিনা সরকার সেখানে সযত্নে তাঁদের নাম ইতিহাসে তুলে এনেছেন এবং সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদেরও সাহায্য জোগাচ্ছেন। মির্জা ফখরুলের আরো দাবি, ‘যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা চেয়েছিল, যুদ্ধ করেছিল—সেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিএনপি সংগ্রাম করছে।’ এটা কি একটি সর্বৈব মিথ্যা নয়? ধরে নেওয়া যাক, বঙ্গবন্ধুর সরকার বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই সরকারকে উত্খাতের জন্য একটি বড় গণ-আন্দোলন দরকার ছিল। তাঁকে রাতের অন্ধকারে কতিপয় ঘাতকের দ্বারা সপরিবারে হত্যা করে জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, না স্বৈরাচারী সামরিক শাসন কায়েম করেছিলেন? তিনি সংসদীয় শাসন পুনরুজ্জীবনের পর সংসদে বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার এবং বাজেটের বিরোধিতা করার ক্ষমতা কি দিয়েছিলেন? না একটি পুতুল পার্লামেন্ট গঠন করেছিলেন?

চীনে জাতির পিতা সান ইয়াৎ সেনের দল কুওমিন্টাং পার্টিকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মাও জেদংয়ের দল রাতের অন্ধকারে ঘাতক দলকে প্রেসিডেন্ট হাউসে পাঠায়নি। তখনকার প্রেসিডেন্ট চিয়াং কাইশেককে অথবা তাঁর পরিবারকে হত্যা করেনি। অন্যদিকে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে যখন কোনো গণবিক্ষোভ নেই, তিনি একনায়ক হয়েছেন বলে কেউ মনে করে না, সেই সময় জিয়াউর রহমান সিআইএর পরিকল্পনা অনুসারে বাংলার দ্বিতীয় মীরজাফর মোশতাকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাতের গভীর অন্ধকারে ঘাতক পাঠিয়েছিলেন জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করার জন্য। তখন দেশে বঙ্গবন্ধুর সরকারের বিরুদ্ধে কোনো গণবিক্ষোভ ছিল না। তাঁকে একনায়কও মনে করা হয়নি। মনে করা হয়েছিল তিনি শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে দেশের স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর সহায়তায় জিয়াউর রহমান নিজের ক্ষমতার স্বার্থে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ছিলেন। তাঁর যদি দেশে তথাকথিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা ছিল, তাহলে ফ্রান্সের দ্য গলের মতো উর্দি ছেড়ে জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করে গণভোটের ব্যবস্থা তোলেননি কেন? তিনি তো ফ্রান্সের বিশ্বাসঘাতক মার্শাল পেঁতার ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। যাঁকে ফ্রান্সের জনগণ জেলে পাঠিয়েছে। জেলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মির্জা ফখরুলরা ইতিহাসের কাছ থেকে শিক্ষা নিন। তাঁরা আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা সরকারের বিরোধিতা করুন। কিন্তু সন্ত্রাসের পথে, ষড়যন্ত্রের পথে এই সরকারকে উত্খাতের চেষ্টা করবেন না। হাসিনা সরকার যদি বিপথে গিয়ে থাকে, গণতান্ত্রিক পথ হারিয়ে থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক পথেই তাদের ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করুন। জনগণকে সঙ্গে নিন। মির্জা ফখরুল বলতে পারেন, আওয়ামী লীগ সরকার তাঁদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে দিচ্ছে না। কোনো দেশেই সরকারবিরোধী দলকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পথে লাল গালিচা পেতে দেয় না। বিরোধী দল বাধা উপেক্ষা করে অগ্রসর হয়। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম হবে না। বিএনপি যদি এটুকু বাধা অতিক্রম করতে না পারে, তাহলে তারা কি মনে করে ঘরে বসে বিবৃতি দিয়ে, ইউটিউব, টুইটার ও ফেসবুকে মিথ্যা ইতিহাস সাজিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারবে? এ ব্যাপারে তাঁরা অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখুন। কান পেতে শুনুন ভোরের শুকতারা কী বলে।

লেখক:আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী,  লন্ডন, সোমবার, ২৮ জুন ২০২১

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*