Thursday , 29 July 2021
ব্রেকিং নিউজ
Home » ধর্ম » ইসলাম » আজ পবিত্র হজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান
আজ পবিত্র হজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান
--ফাইল ছবি

আজ পবিত্র হজ, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

অনলাইন ডেস্ক:

আজ পবিত্র হজ। ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি মাতা লাকা ওয়ালমুলক’। অর্থাৎ, আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার। এই ধ্বনিতে আজ মুখরিত আরাফাতের ময়দান। ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে হাজিদের উপস্থিত হওয়া হজের অন্যতম ফরজ।

পুরুষরা শ্বেত-শুভ্র সেলাইবিহীন ইহরামের দুই খণ্ড কাপড় পরে (নারীরা স্বাভাবিক কাপড়ে) তালবিয়া পাঠ করে মহান আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় লাখ লাখ হাজি আজ সৌদি আরবের মক্কা নগরীর মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ বালিলা।

করোনাকালে দ্বিতীয় বছরের মতো সীমিত পরিসরে হজ পালিত হচ্ছে। অবশ্য গত বছরের চেয়ে এবারে শর্তসাপেক্ষে বেশি সংখ্যক মানুষজনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের হজ করতে ইচ্ছুক এমন সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি আবেদন অনলাইনে জমা পড়ে। সেখান থেকে লটারির মাধ্যমে ১৫০ দেশের মাত্র ৬০ হাজার মানুষ এবারে হজ করার অনুমতি পেয়েছেন। তবে শর্ত থাকে যে করোনার দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

গত শনিবার (১৭ জুলাই) থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। গতবারের মতো এবারও করোনার মহামারির মধ্যে সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে হজ পালন করা হচ্ছে।

সোমবার (১৯ জুলাই) সকালে মিনা থেকে ৩ হাজার বাসে করে হজযাত্রীদের আরাফার ময়দানে সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছানো হয়েছে। হজযাত্রীরা আরাফার ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করে আল্লাহর কাছে মোনাজাতের মাধ্যমে জীবনের সব গুনাহ মাফ করার জন্য প্রার্থনা করবেন।

হাজিরা মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া হজের খুতবা শ্রবণ, যোহর, আসরের এক আজানের দুই ইকামতে কসরের সঙ্গে আদায় করবেন। তাঁবুতে অবস্থানকারী হাজিরা তাঁবুতে নামাজ আদায় করবেন।

আরাফাত ময়দান থেকে সূর্য অস্ত যাবার পর হাজীরা রওনা দেবেন মুজদালিফার উদ্দেশে। মুজদালিফায় পৌঁছে তারা মাগরিব ও এশা একসঙ্গে আদায় করবেন। মুজদালিফার খোলা ময়দানে রাত্রি যাপন করবেন। শয়তানকে নিক্ষেপ করার জন্য সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জীবাণুমুক্ত কংকর প্রত্যেক হজযাত্রীকে সরবরাহ করা হবে। এজন্য হাজীদের নিজ উদ্যোগে মুজদালিফা ময়দান থেকে কংকর সংগ্রহ করতে হবে না। ময়দান থেকে আগামীকাল ফজরের নামাজ পড়ে সূর্যোদয়ের পর মিনা পৌঁছে হাজিরা প্রথম দিন বড় জামারায় সাতটি কংকর নিক্ষেপ করবেন, পাশাপাশি পশু কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডন করে ঈদ আনন্দে মেতে উঠবেন।

হাজিরা মিনা-ময়দানে এভাবে তিন দিন অবস্থান করে পর্যায়ক্রমে শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করবেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*