তথাকথিত মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ কোনো স্থায়ী পক্ষ নেয় না— এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। তারা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলায়। কাউকে প্রয়োজন হলে ব্যবহার করে, আর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে মুহূর্তেই তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। সম্প্রতি ‘তিনতন্ত্র’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক যেসব মাস্টারপ্ল্যান পরিচালনার অফিস ছিল, সেগুলোর বড় কেন্দ্র ছিল রিয়াদ। কিন্তু এখন মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো এশিয়া অঞ্চলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমই দিল্লি থেকে সমন্বয় করা হচ্ছে। আর সেই প্রক্রিয়ায় দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়েও প্রভাবশালী বলে মনে করা হয়।
তাই একটু খোঁজ নিলেই বোঝা যাবে— তিনি এখন কার সঙ্গে দেখা করছেন, নিয়মিত কাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং সেই বৈঠকগুলোতে দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিএনপি বা জামায়াতের কতজন প্রতিনিধির যোগাযোগ রয়েছে।এসব বৈঠকের আড়ালে আসলে কী হচ্ছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে কলকাতার রাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বিজেপির সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’-এর কোনো ভূমিকা ছিল কি না কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দুর্বলতার পেছনেও আন্তর্জাতিক কোনো প্রভাব কাজ করেছে কি না—এ ধরনের প্রশ্নও এখন আলোচনায় আসছে।
তিনি বলেন, গেল আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর— এই সময়ের মধ্যে বিএনপির এক বড় নেতার বাসায় আমি সস্ত্রীক দাওয়াতে গিয়েছিলাম। আমার সন্তানরাও সঙ্গে ছিল। সেখানে মোটামুটি তারেক রহমান ছাড়া বিএনপির শীর্ষ ২০–২৫ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। আমি নাম বলতে চাই না, তবে উপস্থিতদের বেশির ভাগই ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাদের মধ্যে একজন বর্তমানে অত্যন্ত প্রভাবশালী মন্ত্রীও আছেন।
সেখানে উপস্থিতদের মধ্যে একমাত্র মজিবুল হক চুন্নুর মতো ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই ছিলেন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা।সেখানে সবাই আমাকে প্রশ্ন করছিলেন, ‘রনি ভাই, কী হবে? আমাদের ভবিষ্যৎ কী?’ তখন আমি তাদের বলেছিলাম, ‘ভাই, আপনাদের আবারও পালাতে হতে পারে।’
তিনি তখন মুখ কালো করে ফেললেন। পাশে আরেকজন বসা ছিলেন। তিনি বললেন, ‘না, রনি ভাই, এটা ঠিক না। আমরা এটা করব, ওটা করব’—এভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বললেন। পরে দেখা যায়, তিনিও এখন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী মন্ত্রী।
আমি তখন তাকে বলেছিলাম, ভাই, আপনি অনেক দিন দেশের বাইরে ছিলেন, অনেক বিষয় হয়তো আপনি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না। বাংলাদেশে বিভিন্ন ‘ডিপ স্টেট’ বা প্রভাবশালী শক্তিগুলো কিভাবে কাজ করে, সেটা খুব জটিল বিষয়। তারা আপনাকে ব্যবহার করবে, তাদের প্রয়োজন মিটে গেলে আবার সরিয়ে দেবে।
কারণ, তাদের নির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করার জন্য যে ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিবেশ দরকার, তা অল্প সময়ে তৈরি করা সম্ভব নয়। ফলে একটি দুর্বল সরকার দিয়ে কোনো বড় শক্তি—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো আন্তর্জাতিক শক্তি—তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারে না।
ফলে বাংলাদেশে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যদি আমেরিকা আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে, সেটি খুব অস্বাভাবিক কিছু হবে না বলেও উল্লেখ করেন গোলাম মাওলা রনি।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.