দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলার নিন্দা জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন। এই হামলাকে মুক্ত মতের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখছে অধিকার রক্ষার সংগঠনটি।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) আর্টিকেল নাইনটিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই নিন্দা জানানো হয়।
আর্টিকেল নাইনটিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভয়ংকর হামলা, নিউ এজের সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরের ওপর আক্রমণ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানাচ্ছে আর্টিকেল নাইনটিন।
আর্টিকেল নাইনটিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা দৈনিক প্রথম আলো এবং দেশের প্রধান ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সাম্প্রতিক সময়গুলোতে রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক চরমপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে রয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব হামলার ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে—সাংবাদিক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি শত্রুতা, হয়রানি ও সহিংসতা গভীর ও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
ডেইলি স্টার কার্যালয়ের কাছে নিউ এজ সম্পাদক এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকে হেনস্তা করা নিয়েও নিন্দা জানিয়েছে আর্টিকেল নাইনটিন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে এমন আক্রমণাত্মক ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।ঐতিহ্যের প্রতীক সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটে হামলা নিয়ে আর্টিকেল নাইনটিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশজুড়ে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বৃদ্ধির নজির এটি। এই ক্রমবর্ধমান হামলার ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে যে সাংবাদিকতা, সাংস্কৃতিক প্রকাশ এবং নাগরিক আলোচনায় যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য পরিবেশ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত হয়ে উঠছে।
আর্টিকেল নাইনটিন মনে করে, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান দায়মুক্তির সাংস্কৃতির কারণে এমন ঘটনা ঘটছে।
বাংলাদেশে সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে হুমকি, নজরদারি, হয়রানি, হামলার মতো ঘটনাগুলো তদন্তের বাইরে থেকে যায় এবং অপরাধীরা সাজা পান না। রাষ্ট্র অপরাধীদের বিচার করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে অপরাধীদের সাহস বেড়েছে এবং সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরের ওপর হামলার ঘটনা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।বাংলাদেশ সরকারের ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটসসহ (আইসিসিপিআর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলো মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আর্টিকেল নাইনটিন বলেছে, এই চুক্তি অনুযায়ী, রাষ্ট্রকে মতপ্রকাশের অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে।