Monday , 29 June 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
২০২৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই বিশিষ্ট বিজ্ঞানীকে সংবর্ধনা দিল গাকৃবি
--২০২৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই বিশিষ্ট বিজ্ঞানীকে সংবর্ধনা দিল গাকৃবি।

২০২৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই বিশিষ্ট বিজ্ঞানীকে সংবর্ধনা দিল গাকৃবি

মোঃ ইব্রাহীম খলিল
গাজীপুর প্রতিনিধি:
দেশের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও গবেষণার অগ্রযাত্রায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত দুই কৃতী বিজ্ঞানী প্রফেসর ড.  জহুরুল করিম এবং প্রফেসর ড. এম. এ. রহিমকে সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)। সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আন্তরিক ও আবেগঘন পরিবেশে দেশের এই দুই গুণী ব্যক্তিত্বকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) সাবেক ও প্রথম নারী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জেড. এন. তাহমিদা বেগম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপাচার্য দুই স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে তাঁদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এরপর রেজিস্ট্রার দুই গুণী ব্যক্তিত্বের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, গবেষণা ও জাতীয় অবদানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘গবেষণা ও প্রশিক্ষণে’ স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম তাঁর দীর্ঘ গবেষণা ও শিক্ষকতা জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি গবেষণায় নিষ্ঠা, ধৈর্য ও নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে’ স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি অব সায়েন্স (বিএএস) এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. জেড. এ. করিম বলেন, “জীবনে নিয়মানুবর্তিতার কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন হচ্ছে। সেসব জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণায় কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশকে গবেষণায় আরও এগিয়ে নিতে তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আপনাদের পদচারণায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আজ গর্বিত ও সম্মানিত। দেশের জন্য আপনাদের যে অনন্য অবদান, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এই দুই বিজ্ঞানীর আদর্শ, অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনাকে ধারণ করে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের একটি ব্যতিক্রমধর্মী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রসঙ্গত, প্রফেসর ড. জেড. এ. করিম বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ। ধানক্ষেতের মাটিতে ফেরিহাইড্রাইট খনিজ শনাক্তকরণ, দেশের প্রথম খরা তীব্রতা মানচিত্র প্রণয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা সমস্যার কার্যকর সমাধানে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর গবেষণার ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে এবং দেশের লবণাক্ততার মানচিত্র ও শ্রেণিবিন্যাস প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে। এসব অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এর আগে আন্তর্জাতিক CERES পদক লাভ করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম বাংলাদেশের ফল গবেষণার এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর নেতৃত্বে ১২৮টি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে ‘বিইউ কুল’ বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিইউ জার্মপ্লাজম সেন্টার এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এই কেন্দ্রটি বর্তমানে দেশের ফল, ঔষধি উদ্ভিদ ও কৃষি-বনায়নের বৃহত্তম সংগ্রহশালা এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জার্মপ্লাজম সংগ্রহকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply