Thursday , 13 August 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
আ.লীগ নেতা জসিমের মুক্তিতে ডিসিকে ২৭ লাখ// ‘সবাই জানে কে কীভাবে বের হচ্ছে, এটা নিয়ম হয়ে গেছে’
--ফাইল ছবি

আ.লীগ নেতা জসিমের মুক্তিতে ডিসিকে ২৭ লাখ// ‘সবাই জানে কে কীভাবে বের হচ্ছে, এটা নিয়ম হয়ে গেছে’

অনলাইন ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ডিসি মো. আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কারাবন্দি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এক নেতার পরিবারের কাছ থেকে ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই নেতার নাম জহুরুল আলম জসিম, যিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।

প্রায় দেড় বছর ধরে কারাবন্দি জসিম সম্প্রতি সবকটি মামলায় জামিন পান। নতুন কোনো মামলায় আর শ্যোন অ্যারেস্ট না দেখিয়ে তাকে যাতে মুক্তি দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতেই দুই দফায় ডিসিকে এই টাকা দেয় জসিমের পরিবার। আর এই পুরো লেনদেনের মধ্যস্থতা করেন চট্টগ্রাম মহানগর যুব মহিলা লীগের সদস্য ও চসিকের ৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সভাপতি সোনিয়া আজাদ।

গত বছরের ৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা দেওয়া হয়। সব মামলায় জামিন শেষে গত ৮ জুলাই তার কারামুক্তির কথা ছিল। ওইদিন যাতে নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো না হয়, সে বিষয়ে ডিসি আমিরুলের সঙ্গে চুক্তি করে তার পরিবার।

প্রথম ধাপে ১২ লাখ টাকা ডিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়। লেনদেনের সময় জসিমের স্ত্রী তাসলিমা বেগম, ভাই আকবর হোসেন খোকন এবং মধ্যস্থতাকারী সোনিয়া আজাদ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ডিসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হলে জসিমকে কোতোয়ালি থানার পুরোনো একটি মামলায় আবারও গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে শতভাগ মুক্তির আশ্বাস দিলে দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫ লাখ টাকা ডিসির হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

জানা যায়, সোনিয়া আজাদের স্বামী আবু নাসের চৌধুরী আজাদও ৫ আগস্টের পর গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। আওয়ামী লীগ আমলে কমিউনিটি পুলিশিংয়ে যুক্ত থাকার সুবাদে পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সোনিয়ার সখ্য ছিল। সেই সুযোগে নিজে দ্রুত কারামুক্ত হয়ে ডিসি আমিরুলের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে স্বামীকেও ছাড়িয়ে আনেন তিনি। কারাগারে জসিমের সঙ্গে একই কক্ষে ছিলেন সোনিয়ার স্বামী। সেই সূত্রেই জসিমের পরিবারকে সোনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

জসিমের ভাই আকবর হোসেন খোকন বলেন, ‘প্রথমে ভাবি (জসিমের স্ত্রী) আমাকে কিছু বলে নাই। পরে জানতে পারছি, এক মহিলা (সোনিয়া আজাদ) ভাইয়াকে জেল থেকে বের করার জন্য কাজ করছে। অথচ বের হওয়ার দিন সীতাকুণ্ড ও কোতোয়ালি থানার দুই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। মূলত আজাদ ভাই জেলখানায় ভাইয়ার সঙ্গে একই রুমে ছিল। আর ওই মহিলা আজাদ ভাইয়ের স্ত্রী। এগুলোর জন্য আল্লাহ বিচার করবেন।’

কারামুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী সোনিয়া আজাদ অকপটে বলেন, ‘এখন সবাই জানে, কে কীভাবে বের হচ্ছে। আমার হাজব্যান্ডের বিষয়টা হ্যান্ডেল করেছি বলে আমি জানি, কীভাবে কী করতে হয়। আমার হাজব্যান্ডের জন্য কোথায় কত টাকা দিয়েছি, কী দিয়েছি, তা বলতে যাইনি। কারণ এটা নিয়ম হয়ে গেছে। আমরা এই নিয়মে পড়ে গেছি।’

তবে ডিসিকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আজাদ দুবার গেট থেকে ফেরত গিয়েছিল। তখন তো আমি কাউকে দোষ দিইনি। তৃতীয় দফায় আজাদকে বের করেছি। তখনো ডিসি আমিরুল টাকা নিয়েছে-এমন একটি কথা উঠেছিল, কিন্তু বিষয়টি সত্য নয়। প্রশাসনকে জড়িয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।’

জসিমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজাদ আর জসিম ভাইয়ের লেভেল এক নয়। জসিম ভাইয়ের ভাই (খোকন) অনেক বেশি রূঢ় হয়ে গেছে। এ কারণে প্রতিশোধপরায়ণ ভাব চলে এসেছে মানুষের মধ্যে। জসিম ভাইয়ের বিষয়টা হ্যান্ডেল করতে গিয়ে দেখলাম, ওনার পেছনে এখনো অনেক মানুষ লেগে আছে। বিষয়টি নিয়ে টেনশন করতে গিয়ে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’

টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সিএমপির ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখার ডিসি মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সাবেক কাউন্সিলর জসিমকে আমি নিজে ঢাকার বসুন্ধরা থেকে গ্রেফতার করে চালান দিয়েছি। তাকে কারামুক্ত করার বিষয়ে সহযোগিতা বা তদবির করার প্রশ্নই ওঠে না। এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কারও কথা হয়নি।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিএমপির উত্তর বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগদানের পর সাংবাদিক, নারী শিক্ষার্থী এবং ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে আমিরুলের বিরুদ্ধে। এরপর গত ১৮ জুন তাকে উত্তর বিভাগ থেকে সরিয়ে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখায় বদলি করা হয়।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply