আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসুল এসেছেন। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১২৮)
উল্লিখিত আয়াতে মুহাম্মদ (সা.)-কে এমন দুটি গুণবাচক শব্দে ভূষিত করেছেন, যা আল্লাহ নিজের জন্য ব্যবহার করেছেন।
মসজিদে প্রবেশকালে ‘বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ’ বলতে হয়। নামাজের তাশাহুদ পাঠ করার সময় ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত’ পড়ার পর ‘আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’ পড়তে হয়।
ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ.) দুজন মিলে পবিত্র কাবাঘর নির্মাণের কাজ শেষ করার পর দোয়া করেন। দোয়ায় তাঁরা বলেন, ‘হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের উভয়কে তোমার একান্ত অনুগত করো এবং আমাদের বংশধর থেকে তোমার এক অনুগত উম্মত করো। আমাদের ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দাও এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হও। তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে এক রাসুল প্রেরণ করো, যে তোমার আয়াতগুলো তাদের কাছে তিলাওয়াত করবে; তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১২৮-১২৯)
আতা ইবনে ইয়াসার বলেন, আমি একবার আমর ইবনুল আস (রা.)-এর সঙ্গে দেখা করলাম এবং বললাম, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গুণ বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, গুণ! কোরআনে উল্লিখিত তাঁর কতক গুণের উল্লেখ তাওরাতেও আছে। তা হলো, হে নবী! আমি আপনাকে শাহিদ (সাক্ষ্যদাতা), মুবাশশির (সুসংবাদদাতা) ও নাজির (সতর্ককারী) হিসেবে প্রেরণ করেছি। আপনি উম্মিদের আশ্রয়স্থল, আমার বান্দা ও রাসুল। আমি আপনার নাম ‘মুতাওয়াক্কিল’ (ভরসাকারী) রেখেছি। আপনি অসচ্চরিত্র ও কঠোর নন এবং বাজারেও ঘুরাফিরা করেন না। আপনি মন্দের জবাবে মন্দ করেন না, বরং মাফ করে দেন। আল্লাহ আপনাকে তুলে নেবেন না, যে পর্যন্ত আপনার জাতি পথভ্রষ্টতা মুক্ত না হয়ে যায় এবং তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ না বলে। আল্লাহ আপনার মাধ্যমে অন্ধ চোখগুলোকে দৃষ্টিশক্তি, বধির কর্ণগুলোকে শ্রবণশক্তি এবং পথভ্রান্ত অন্তরগগুলোকে সৎপথের দিশা দান করবেন।
আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘গোটা সৃষ্টিজগতের জন্য আপনাকে করুণার মূর্তপ্রতীক হিসেবে পাঠিয়েছি।’
তাফসিরে রুহুল মাআনিতে উল্লিখিত আয়াতের তাফসিরে বলা হয়েছে, রাসুলে আকরাম (সা.) সব সৃষ্টির জন্য রহমত বা অনুগ্রহ। এর মর্মার্থ হলো সৃষ্টির প্রতিটি বস্তুর ওপর রহমতে ইলাহি বর্ষিত হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি একটি মাধ্যম।
মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কিয়ামত দিবসে সব মানুষের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম বের হবো এবং আমিই সবার নেতা হবো। সবার পক্ষ থেকে আমিই কথা বলব…ওই দিন সর্বাধিক সম্মান আমারই হবে এবং সব কিছুর চাবি আমারই হাতে থাকবে।’ দুনিয়ায়ও আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করেছেন।
একবার মুনাফিকরা মহানবী (সা.)-এর সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করলে আল্লাহ ধমকের সুরে বলেন, ‘তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা দাবি করে যে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তারা বিশ্বাস করে, অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, যদিও তা প্রত্যাখ্যান করতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং শয়তান তাদেরকে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়?’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৬০)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যে লোক রাসুলের হুকুম মান্য করল সে আল্লাহর হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে তাদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করিনি।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮০)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা পরস্পরকে যেভাবে আহবান করে থাকো রাসুলকে সেভাবে আহবান কোরো না।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৬৩)
আল্লাহ পবিত্র কোরআনে আরো বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু কোরো না এবং তোমরা একে অপরের সঙ্গে যেরূপ উঁচুস্বরে কথা বলো, তাঁর সঙ্গে সেরূপ উঁচুস্বরে কথা বোলো না। এতে তোমাদের কর্মফল নিষ্ফল হয়ে যাবে, তোমরা উপলব্ধিও করতে পারবে না।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ২)
এভাবেই মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের ওপর তাঁর মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
