নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় দেশের অন্যতম বৃহৎ আমের হাট জমে উঠেছে চাষি, পাইকার ও ব্যবসায়ীদের সমাগমে। গত রোববার ঘুরে দেখা যায়, সাপাহার জিরো পয়েন্ট থেকে গোডাউনপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দুই পাশে বসেছে বিশাল হাট। এ হাটে হিমসাগর, ল্যাংড়া, নাক ফজলি, ব্যানানা ম্যাংগো, হাড়িভাঙা এবং আম্রপালি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। যদিও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় আম্রপালি বাজারে আসার কথা ১৮ জুন থেকে, তবে চাষিরা বলছেন, গরম ও আবহাওয়া জনিত কারণে আম আগেই পরিপক্ব হয়ে গেছে, ফলে আগেভাগেই বাজারে তুলেছেন।
তবে ওজন ও দাম নিয়ে চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কেজিতে আম বিক্রির নিয়ম থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় ৫২ কেজিকে এক মণ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়ছেন বলে অভিযোগ। আম বিক্রির দরদাম নির্ধারণে অনিয়ম এবং অসঙ্গতি নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত।
পত্নীতলার আমচাষি মেরাজুল ইসলাম বলেন, “বাজারে এসে দেখলাম মণ হিসেবে আম বিক্রি হচ্ছে। তাও আবার ৫২ কেজিতে এক মণ ধরা হচ্ছে। ফলন কম, দাম কম—তার ওপর বেশি ওজন! আমরা কোথায় যাবো?” এদিকে শ্রী গোপাল চন্দ্র দেবনাথ নামের একজন চাষি বলেন, “গত বছর যে আম ৪০০০—৪৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এবার সেটি ২০০০—২৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে খরচই উঠছে না।”
বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হিমসাগর বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ১২৫০১৫৫০ টাকায়, ল্যাংড়া ৮৫০১৪০০, নাক ফজলি ১১০০১৪০০, ব্যানানা ম্যাংগো ৩০০০৩৪০০, হাড়িভাঙা ১৪০০২৬০০ এবং আম্রপালি ২০০০৩৩০০ টাকায়। ঢাকার ব্যবসায়ী হারুণ সরদার বলেন, “৫—৬ বছর ধরে সাপাহারে আসছি। এবার ঢাকায় আমের চাহিদা কম। ১০০ ক্যারেট কিনলে ৫০ ক্যারেট নিতে পারছে না ডিলার। লোকসানে পড়ছি।”
ব্যবসায়ী শাকিল হোসেন বলেন, “৫২ কেজিতে মণ নেওয়ার বিষয়টি চাষিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই হয়। সব আম এক সাইজের না হওয়ায় ওজন সামান্য কমবেশি হয়।”
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ৩০,৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৪ টন আম উৎপাদনের।
জমে উঠেছে সাপাহারের আমের হাট
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
