‘জুলাই জাতীয় সনদ শহীদদের রক্তস্নাত এবং এটা পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমরা নিয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারও কিন্তু নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই এসেছিলেন। কিন্তু যেই প্রতিষ্ঠান বা পদ্ধতিই হাসিনাকে স্বৈরাচারে পরিণত করেছিল। সেই পদ্ধতির যদি পরিবর্তন করা না হয় তাহলে পুরোনো পদ্ধতিতে হেঁটে নতুন গন্তব্যে পৌছানো কঠিন।
রাজনীতিবিদ ও চিন্তক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘পৃথিবীতে সার্বভৌম সংসদ বলে কোনো ধারণা নেই এবং এই ধারণা থেকেই আমাদের বের হয়ে আসা উচিত। ১৯৯০ সালের তিন জোটের রূপরেখাকে এর একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন অনেকে, যেখানে সার্বভৌম সংসদের কথা বলা হয়েছিল। সার্বভৌম সংসদ ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করে, যা স্বৈরাচারী শাসনের পথ খুলে দেয়। ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী অর্থাৎ বাকশাল যেখানে সংসদ নিজেদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের জন্য বৃদ্ধি করেছিল। এটি প্রমাণ করে যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেলে রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রকে সংকটের দিকে ঠেলে দেয়।’
রাজনৈতিক সংস্কার ও গণভোটের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত বিরোধী দলের দৃষ্টিকোণ থেকে সংস্কারের কথা ভাবা। সংবিধান সংস্কার বলে কিছু নেই, হয় সংবিধান পুনর্লিখন করতে হবে অথবা সংশোধনী করতে হবে। সংসদ কেবল সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধনী করতে পারে, যা সংবিধানের ক্ষমতা থেকে উদ্ভূত। কিন্তু এখন পর্যন্ত যেসব প্রস্তাব এসেছে, তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ছাপিয়ে গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণপরিষদ নির্বাচন এক জিনিস নয়। যখন দেশের সংবিধানের বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার হয়, তখন গণপরিষদ নির্বাচন জরুরি হয়ে পড়ে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও ১৯৭৮ সালে গণপরিষদ নির্বাচনের কথা বলেছিলেন, যা থেকে বোঝা যায় এটি কোনো নতুন ধারণা নয়।’
নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার বলেন, ‘আমরা অভ্যুত্থানের মাস্টার মাইন্ড খুজতে পাগল হয়ে গেলাম। এর ফলে এ অভ্যুত্থানে জনগণের অংশগ্রহণগুলোকে বাতিল করা হলো। এখন আলোচনা হয় এটা অভ্যুত্থান নাকি বিপ্লব। এ সরকার বা কোন সরকার তা নিয়ে আলাপ করতে করতেই এক বছর পার করে ফেলছি। আপার হাউসে পিআরের কথা আমরাই বলেছি। কিন্তু এখন তো একটা হাউজই আছে। এখন দেখি পিআর নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু পিআরের বাস্তবতা এখন আছে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা আছে। গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেন নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। আমরা তো নতুন সংবিধান চাচ্ছি না। আমরা সংবিধানের কিছু কিছু জায়গায় পরিবর্তন চাচ্ছি। সেগুলো আলোচনার মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব।’
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
