Wednesday , 24 June 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
‘জুলাই জাতীয় সনদ’ শহীদদের রক্তস্নাত : বদিউল আলম মজুমদার
--সংগৃহীত ছবি

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ শহীদদের রক্তস্নাত : বদিউল আলম মজুমদার

অনলাইন ডেস্কঃ

‘জুলাই জাতীয় সনদ শহীদদের রক্তস্নাত এবং এটা পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমরা নিয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারও কিন্তু নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই এসেছিলেন। কিন্তু যেই প্রতিষ্ঠান বা পদ্ধতিই  হাসিনাকে স্বৈরাচারে পরিণত করেছিল। সেই পদ্ধতির যদি পরিবর্তন করা না হয় তাহলে পুরোনো পদ্ধতিতে হেঁটে নতুন গন্তব্যে পৌছানো কঠিন।

ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সেগুলো করার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে মৌলিক সংস্কারের কথা বলেছি। জুলাই সংস্কার বাস্তবায়ন হলেই বুঝা যাবে এটা কার্যকর কি না।শনিবার (২৩ আগস্ট) সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট-এ ‘জুলাই সনদ : আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবায়ন’ শিরোনামে এক বিশেষ গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘গত বছর জুলাই মাসে বাংলাদেশে একটি গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। এই অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না। বরং বিভিন্ন আদর্শের রাজনৈতিক দল, ছাত্র, শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল ছিল। এই গণ-অভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছিল এবং দেশে কিছুটা হলেও স্বাধীনভাবে কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, ৫ আগস্টের পর কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কারণে গণতন্ত্রের এই পথ থেকে আমরা কিছুটা সরে এসেছি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। মৌলিক নীতি বা ‘ভ্যালুস’গুলো সবার একই হওয়া সত্ত্বেও কেন এই দূরত্ব। একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই সবার মূল লক্ষ্য, যেখানে থাকবে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা। গণতন্ত্রের সংগ্রামে বিএনপি সবসময় নেতৃত্ব দিয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলকে যেন এমন জুলুমের শিকার হতে না হয় এবং তাই প্রতিহিংসার চক্র ভাঙতে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

আলোচনা সভায় আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘জুলাই সনদকে ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষার জায়গা থেকে দেখতে হবে। বাংলাদেশে আগামী গণ-অভ্যুত্থানের বীজ এই জুলাই সনদে লেখা হয়ে গেছে। ফলে সে বাস্তবতার নিরিখে এখন আমাদের জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবায়নের বিষয় আলোচনা করতে হবে।’

রাজনীতিবিদ ও চিন্তক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘পৃথিবীতে সার্বভৌম সংসদ বলে কোনো ধারণা নেই এবং এই ধারণা থেকেই আমাদের বের হয়ে আসা উচিত। ১৯৯০ সালের তিন জোটের রূপরেখাকে এর একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন অনেকে, যেখানে সার্বভৌম সংসদের কথা বলা হয়েছিল। সার্বভৌম সংসদ ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করে, যা স্বৈরাচারী শাসনের পথ খুলে দেয়। ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী অর্থাৎ বাকশাল যেখানে সংসদ নিজেদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের জন্য বৃদ্ধি করেছিল। এটি প্রমাণ করে যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেলে রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রকে সংকটের দিকে ঠেলে দেয়।’

রাজনৈতিক সংস্কার ও গণভোটের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত বিরোধী দলের দৃষ্টিকোণ থেকে সংস্কারের কথা ভাবা। সংবিধান সংস্কার বলে কিছু নেই, হয় সংবিধান পুনর্লিখন করতে হবে অথবা সংশোধনী করতে হবে। সংসদ কেবল সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধনী করতে পারে, যা সংবিধানের ক্ষমতা থেকে উদ্ভূত। কিন্তু এখন পর্যন্ত যেসব প্রস্তাব এসেছে, তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ছাপিয়ে গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণপরিষদ নির্বাচন এক জিনিস নয়। যখন দেশের সংবিধানের বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার হয়, তখন গণপরিষদ নির্বাচন জরুরি হয়ে পড়ে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও ১৯৭৮ সালে গণপরিষদ নির্বাচনের কথা বলেছিলেন, যা থেকে বোঝা যায় এটি কোনো নতুন ধারণা নয়।’

নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার বলেন, ‘আমরা অভ্যুত্থানের মাস্টার মাইন্ড খুজতে পাগল হয়ে গেলাম। এর ফলে এ অভ্যুত্থানে জনগণের অংশগ্রহণগুলোকে বাতিল করা হলো। এখন আলোচনা হয় এটা অভ্যুত্থান নাকি বিপ্লব। এ সরকার বা কোন সরকার তা নিয়ে আলাপ করতে করতেই এক বছর পার করে ফেলছি। আপার হাউসে পিআরের কথা আমরাই বলেছি। কিন্তু এখন তো একটা হাউজই আছে। এখন দেখি পিআর নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু পিআরের বাস্তবতা এখন আছে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা আছে। গণপরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেন নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। আমরা তো নতুন সংবিধান চাচ্ছি না। আমরা সংবিধানের কিছু কিছু জায়গায় পরিবর্তন চাচ্ছি। সেগুলো আলোচনার মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব।’

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply