Wednesday , 24 June 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের বক্তব্যে ছাত্রদলের ক্ষোভ
--ফাইল ছবি

ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের বক্তব্যে ছাত্রদলের ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতি অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে বিবৃতি দিয়েছে তাতে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে প্রার্থীদের অভিযোগকে ‘অনির্দিষ্ট’ ও ‘সারবত্তাহীন’ বলে উল্লেখ করা হয়, যা নিয়ে ছাত্রদল তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।

ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১১টি নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং আবেদনপত্রের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ বিশ্লেষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই এই বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল কেন্দ্রের নির্দিষ্ট বুথের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার জন্য প্রার্থীদের আবেদনকে প্রশাসন ‘অনির্দিষ্ট’ বলে অভিহিত করেছে।

অথচ ছাত্রদলের দাবি, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে উত্থাপিত সন্দেহ নিরসনের জন্য সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ অপরিহার্য। তারা জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ পাবলিক ডকুমেন্ট না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে প্রার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ফুটেজ পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র অনুসারে নির্বাচনের তিন দিনের মধ্যে আবেদন দাখিল করা হলেও এবং বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হলেও অভিযোগগুলোকে প্রশাসন ‘সারবত্তাহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। এমনকি যথাযথ প্রক্রিয়ায় দাখিলকৃত অভিযোগের জবাব না দিয়ে প্রশাসন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের দিকে গুরুত্ব দিয়েছে, যা তাদের প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তরিকতার অভাব প্রকাশ করে।

ছাত্রদল প্রশ্ন তুলেছে, প্রশাসনের তথাকথিত ‘যথাযথ প্রক্রিয়া’ কি কেবল সময়ক্ষেপণ ও অভিযোগ এড়ানোর কৌশল?নির্বাচনে ভোটার তালিকা ও ভোটার উপস্থিতি যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদল জানায়, কোনো পোলিং এজেন্টকে ভোটগ্রহণ চলাকালীন ভোটার তালিকা অনুসারে উপস্থিতি যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রকাশিত ভোটার উপস্থিতির হার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও প্রশাসন ছাড়া কারো কাছে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। এই অসংগতি নিরসনের জন্য প্রার্থীরা যথাসময়ে আবেদন দাখিল করলেও প্রশাসন তা ‘অনির্দিষ্ট’ বলে উল্লেখ করেছে, যা স্বচ্ছতার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।

এ ছাড়া ভোটার তালিকা প্রকাশে আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে ছাত্রদল দাবি করেছে, গোপনীয়তা রক্ষা করে শুধু উপস্থিতি চিহ্নিত তালিকা পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, প্রশাসনের বিবৃতিতে নীলক্ষেতে ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নীলক্ষেতে ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে। এটি ছাত্রদলের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে এবং প্রশাসনের বিবৃতিকে মিথ্যাচার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ছাত্রদল আরো অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের পরদিন অফিস বন্ধ থাকায় পরবর্তী দিন চিফ রিটার্নিং অফিসার বরাবর আবেদন করা হয়। তৃতীয় দিনে চিফ রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে উপাচার্য বরাবর আবেদন দাখিল করা হলেও প্রশাসনের বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ‘২ সপ্তাহ পর উত্থাপিত’ বলে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে।

এতে শিক্ষার্থীদের মনে সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়েছে।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যোগ্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় স্বচ্ছ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর যুক্তিযুক্ত জবাব শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবে। তারা এই অস্পষ্টতা ও অনিয়মের বিষয়ে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply