আগে শুনতাম দেশটা মগের মুল্লুক, এখন মনে হচ্ছে দেশটা মবের মুল্লুক হয়ে যাচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর মানুষের মাঝে যে প্রত্যাশা জেগেছিল, তা গত এক বছরে মার খেতে খেতে এখন চরম হতাশায় পরিণত হয়েছে। সমাজে এক ধরনের সর্বব্যাপী অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার দায় রাষ্ট্র ও প্রশাসন এড়াতে পারে না। সম্প্রতি এক টেলিভিশন টক শোতে তিনি এ কথা বলেন।
আলোচিত সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তুলে ধরে রতন বলেছেন, ঘটনাটি প্রকাশ্যে ঘটলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। পাশে আনসার ক্যাম্প ছিল, তারা কিছু করেনি। পুলিশও তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি পথচারীদেরও কারো সে রকম কোনো ভূমিকা নাই।
অথচ এই ভয়াবহ ঘটনাটি যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন দেশজুড়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।তিনি বলেন, এখন কোনো অপরাধীকে ধরা হলে প্রথমেই খোঁজা হয় তার রাজনৈতিক পরিচয়। যদি দেখা যায় সে কোনো দলের সঙ্গে জড়িত, তখন সেই দল দ্রুত তাকে বহিষ্কার করে দায় ঝেড়ে ফেলে। কিন্তু একটা রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলেই কি অপরাধের বিচার শেষ হয়ে যায়? দল বহিষ্কার মানে কি রাষ্ট্রীয় দায়মুক্তি?
রতন বলেন, আমরা এমন এক ব্যবস্থায় বাস করছি, যেখানে প্রশাসনের কাছে অপরাধ ঠেকানোর চেয়ে নিজের চাকরি রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে।
কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ধরলে যদি চাকরি হারানোর ভয় তৈরি হয়, তাহলে তো অপরাধীরা সব সময়ই রক্ষা পেয়ে যাবে।রতন আরো বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধের বিচার হওয়া উচিত নিরপেক্ষভাবে। রাষ্ট্রের কাজ হলো ভিকটিমের পাশে দাঁড়ানো, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজে সময় নষ্ট করা নয়।