Thursday , 25 June 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
শেখ হাসিনার পলায়নের পর জাতির উদ্দেশে যা বলেছিলেন সেনাপ্রধান
--জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ছবি : সংগৃহীত

শেখ হাসিনার পলায়নের পর জাতির উদ্দেশে যা বলেছিলেন সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্কঃ

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে রচিত হয়েছিল এক যুগান্তকারী অধ্যায়। দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও বঞ্চনার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার অপ্রতিরোধ্য গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগে বাধ্য হন এবং গোপনে দেশ ত্যাগ করে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নেন।

দেশজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে এক তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যার লক্ষ্য হবে দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনা, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।সেদিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন ছিল না বরং তা ছিল জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আশার বাস্তব রূপ। যেখানে জনতার শক্তি প্রমাণ করে দেয় যে একটি দেশের প্রকৃত ক্ষমতার উৎস তার জনগণ।

সেদিন বিকেল ৪টায় জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান টেলিভিশনে এসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘দেশে একটা ক্রান্তিকাল চলছে।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। এই অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে উনার সঙ্গে কথা বলব। তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা হবে।’

সবহত্যা ও অন্যায়ের বিচার হবে উল্লেখ করে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আপনারা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখেন। আমরা সব দায়-দায়িত্ব নিচ্ছি।

আপনাদের কথা দিচ্ছি, আশাহত হবেন না। যত দাবি আছে, সেগুলো আমরা পূরণ করব। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসব। আমাদের সহযোগিতা করেন। প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।’ভাঙচুর, হত্যা, সংঘর্ষ ও মারামারি থেকে জনগণকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আপনারা যদি কথামতো চলেন, একসঙ্গে কাজ করি। নিঃসন্দেহে সুন্দর পরিণতির দিকে অগ্রসর হতে পারব। মারামারি ও সংঘাত করে আর কিছু পাব না। তাই দয়া করে ধ্বংসযজ্ঞ, অরাজকতা ও সংঘর্ষ থেকে বিরত হন। সবাই মিলে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হবো।’

রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে জানিয়ে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সুন্দর আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কাজ পরিচালনা করব। ধৈর্য ধরেন, সময় দেন। আমরা সবাই মিলে সব সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবো।’

সংঘাতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘অর্থ-সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। লোকজন মারা যাচ্ছে। সংঘাতের পথে যাবেন না। শান্তি-শৃঙ্খলার পথে ফিরে আসেন।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কত সদস্য হবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এখনো খুব আর্লি স্টেজ। আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। আলাপ-আলোচনা করে ঠিক করা হবে। আজকেই রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। রাতের মধ্যেই সমাধানে যাওয়ার চেষ্টা করব। দু-এক দিন আমাদের সময় দেওয়া লাগতে পারে।’

আলোচনায় কারা উপস্থিত ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘জামায়াতের আমির, বিএনপির শীর্ষ নেতা, জাতীয় পার্টির নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ছিলেন। আওয়ামী লীগের কেউ ছিল না। সময় কম ছিল। যাদের পেয়েছি, তাদের বলেছি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, জোনায়েদ সাকি ছিলেন। অধ্যাপক আসিফ নজরুল ছিলেন। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তাও দিয়েছেন। এখন ছাত্রদের কাজ শান্ত হওয়া ও আমাদের সাহায্য করা।’

সেনাবাহিনী শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ চালিয়ে যাবে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘সবার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে সাহায্য করা। পরিস্থিতি শান্ত হলে কারফিউ বা জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই। আমি আদেশ দিয়েছি, কোনো গোলাগুলি হবে না। সেনাবাহিনী, পুলিশ কোনো গুলি চালাবে না। আশা করছি, এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’ সেনাপ্রধান আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা সবাইকে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

আজকের এই দিনটিকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে স্মরণ করা হয়।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply