তরুণদের সব দাবি অন্তর্বর্তী সরকার পূরণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে ইউসেপ বাংলাদেশের কার্যালয়ে হিজড়া সদস্যসহ জুলাই অভ্যুত্থানে আহত যুবাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তরুণ জুলাইযোদ্ধাদের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘বাচ্চাদের অনেক দাবি আছে, আমি জানি। কিন্তু এসব দাবি এই সরকার পূরণ করতে পারবে না।
এই অল্প সময়ে এটা হবে না। কিন্তু যেটা হতে পারে, আমরা বিবেককে নাড়া দিতে পারি। চুরি কিছুটা বন্ধ করতে পারি। বিদেশে পাচার হওয়া টাকা আমরা কিছু নিয়ে আসতে পারি ফেরত।
কিন্তু এই পরিবর্তন ধরে রাখবে কে?’
তিনি সৎ আদর্শবান তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যারা সত্যিকার অর্থেই দেশকে ভালোবেসে সমস্ত অনিয়ম-দুর্নীতি রুখে দিতে পারবে।
উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ বলেন, ‘একাত্তরের পর আমাদের বীরযোদ্ধাদের আমরা শূন্য হাতে গ্রামে ফেরত পাঠিয়েছি। চব্বিশে আমরা চাই আমাদের প্রতিটি ছেলেমেয়ে, কেউ যেন খালি হাতে না ফেরত যায়। লেখাপড়ায়, কাজে, দক্ষতায় তারা যেন বেড়ে ওঠে, এমন সমাজ যেন আমরা গড়তে পারি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আসার এক বছর হয়েছে। এই এক বছরে অনেক গভীর শিক্ষা এবং উপলব্ধিতে পৌঁছেছি। সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা হচ্ছে, সরকার হলেই, সরকার সব পারে না এবং রাষ্ট্র কখনো একা দেশ গড়ে তুলতে পারে না। একটি দেশ যদি পৃথিবীর বুকে মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, তাহলে সেই দেশের মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়।’
এ সময় শারমীন মুরশিদ জানান, গণপরিবহনে নারীদের হয়রানি বন্ধ করতে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে গাড়িচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউসেপ বাংলাদেশ জুলাই আন্দোলনে আহত এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে। তাদের গাড়ি চালনা, গ্রাফিকস ডিজাইন, বিউটিফিকেশনসহ ৪০টি বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০ জনকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরো বাড়বে। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ইউসেপ সেন্টারে গিয়ে জুলাই আন্দোলনে আহত এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর যে কেউ তিন মাস মেয়াদি এই প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপারসন ড. ওবায়দুর রব। তিনি জানান, জেন্ডার ডাইভার্স কমিউনিটি ও জুলাই আন্দোলনের যুবাদের দক্ষতা উন্নয়নে ইউসেপ বাংলাদেশ তাদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো অংশগ্রহণকারীদের মানসম্মত কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষার সুযোগ প্রদান, যাতে তারা কর্মসংস্থান, আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি অর্জন করতে সক্ষম হন।