মেহেরুবান হাবিব
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় জগতবেড় ইউনিয়নের পশ্চিম জগতবেড় ব্লকে ৩ একর জমিতে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প–এর আওতায় এই প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়।
জগতবেড় ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন অনাবাদি ও পতিত পড়ে থাকা জমিকে পরিকল্পিতভাবে চাষের আওতায় এনে বিশাল মাঠজুড়ে এখন চোখ জুড়ানো সরিষার হলুদ ক্ষেতের দেখা মিলছে। এতে একদিকে যেমন জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকের আয় বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
এই জমিতে সরিষা বা অন্যান্য তেলজাতীয় ফসল কাটার পর পরই বোরো ধান আবাদ করা হবে। সেই লক্ষ্যেই এখন থেকেই প্রস্তুত করা হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে বারি সরিষা-২০ জাত, যার জীবনকাল মাত্র ৯০ থেকে ৯৫ দিন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বারি সরিষা-২০ একটি উচ্চ ফলনশীল, স্বল্প মেয়াদি ও রোগ প্রতিরোধী জাত। অন্যান্য জাতের তুলনায় এতে তেলের পরিমাণ প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ বেশি। কৃষকের কল্যাণ বিবেচনায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক এই জাতটি অবমুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় শুধু বীজ উৎপাদনই নয়, উৎপাদিত বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সাধারণত ৩ থেকে ৫ জন কৃষক একত্রে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন করছেন, যা খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম জানান, ক্লাস্টার পদ্ধতিতে সরিষা চাষের মাধ্যমে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের খাদ্য ও তেল ঘাটতি পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
