যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দর এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৯ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমেছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে বসন্তকালীন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় গ্যাস প্রবাহ কমে গেছে, যা দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
আলজাজিরা বলছে, নিউইয়র্ক মারকেন্টাইল এক্সচেঞ্জে জুন মাসের সরবরাহের জন্য ফ্রন্ট-মান্থ গ্যাস ফিউচার অর্থাৎ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাচাকাচি এই সময়ে ৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ২ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই চুক্তির দর ২৯ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন মূল্যে হওয়ার পথে রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলের বাজার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৯ দশমিক ৮৭ ডলারে নেমেছে। এর একদিন আগে বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময়ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৭০ ডলারের একটু বেশি। এখন দুই দেশের মধ্যে চুক্তির খবরে দাম কমলেও, আগের অবস্থায় যায়নি।
যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেল উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পায়। এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে।
এক্সিওস সম্ভাব্য চুক্তির প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি ইরান তাদের সঙ্গে শর্ত অনুযায়ী সমঝোতা না করে তাহলে আবারও বোমাবর্ষণ শুরু হবে।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
