ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » মালদ্বীপে ডানা মেলল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস
মালদ্বীপে ডানা মেলল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস
--ফাইল ছবি

মালদ্বীপে ডানা মেলল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস

অনলাইন ডেস্ক:

ঢাকা থেকে নিজেদের দশম আন্তর্জাতিক গন্তব্য মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট চালু করল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। ১২৯ যাত্রী নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে মালের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারী বিমান সংস্থাটির বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ভবনে ইউএস-বাংলার ঢাকা-মালে ফ্লাইট শুরুর আগে ফিতা কেটে শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অবস্থিত মালদ্বীপের মাননীয় হাইকমিশনার শীরম্নজিমাথ সামির ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর সাদিকুর রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কভিড-১৯ কালীন সময়ে সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দু’দেশের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে মালে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। ১৬৪ আসনের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে উদ্বোধনী ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিনদিন প্রতি মঙ্গল, শুক্র ও রবিবার ঢাকা থেকে সরাসরি মালে ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘মালদ্বীপে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে ইউএস-বাংলা আকাশপথে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। তাদের এই ফ্লাইটের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দুই দেশে শ্রমিকরা সহজে যাতায়াত করতে পারবে। দুই দেশের সব যাত্রীর যাত্রা হবে সহজ ও আরামদায়ক। দুই দেশের পর্যটন শিল্পের প্রসারে এই ফ্লাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দেশের আকাশপথের পরিধি। আশা করছি ইউএস-বাংলা তাদের সক্ষমতার মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন মার্কেটের একটি বড় অংশ (যাত্রী) বহন করে দেশীয় এয়ারলাইনস শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটাবে।’

তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব এয়ারলাইনসের পাশাপাশি আমাদের দুটি বেসরকারী এয়ারলাইনসও সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করছে। বর্তমানে তিনটি বেসরকারী এয়ারলাইনসের সঙ্গে আগামী বছর যুক্ত হতে যাচ্ছে আরো দুটি এয়ারলাইনস। করোনায় সবচেয়ে বিধ্বস্ত অবস্থার মধ্যে এভিয়েশন ও পর্যটন খাত আছে উল্লেখ করে মাহবুব আলী বলেন, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এয়ারলাইনসগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। নীতিগত সহায়তার পাশাপশি আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। সব পক্ষের আন্তরিক চেষ্টায় আবার এভিয়েশন খাত ঘুরে দাড়িয়েছে।

মালদ্বীপের হাই কমিশনার শিরুজিমাথ সামির বলেন, ইউএস-বাংলা দ্বিতীয় এয়ারলাইনস হিসেবে মালেতে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করল। করোনার প্রকোপের মধ্যেও এটি তাদের অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। মালদ্বীপ খুবই চমৎকার একটি রাষ্ট্র। আমি চাই ইউএস-বাংলা সাশ্রয়ী প্যাকেজ দিয়ে বাংলাদেশিদের মালদ্বীপ যাওয়ার সুযোগ করে দেবে।

ইউএস-বাংলার এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে মালদ্বীপে যাতায়াত করা ৯০ শতাংশই প্রবাসী কর্মী। বাকি ১০ শতাংশ ব্যবসায়ী। আমার শ্রমিক ভাইয়েরা এতোদিন ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে মালদ্বীপের ওয়ানওয়ে টিকেট কাটতেন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এখন তাদের সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকায় ওয়ানওয়ে টিকেট দেবে। এটা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স প্রতি মঙ্গলবার ঢাকা থেকে সকাল ১১টা ১০ মিনিট মালদ্বীপের রাজধানী মালের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করবে এবং স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে মালেতে অবতরণ করবে। একই দিন বিকাল ৩টা ৩৫মিনিটে মালে থেকে উড্ডয়ন করে রাত ৮টা ৩৫মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করবে।

প্রতি শুক্রবার ঢাকা থেকে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে মালেতে অবতরণ করবে। একই দিন বিকাল ৩টা ১৫মিনিটে মালে থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং রাত ৮টা ১৫মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করবে।

এছাড়া প্রতি রবিবার ঢাকা থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মালের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মালেতে অবতরণ করবে। একই দিন দুপুর ১টা ৫৫মিনিটে মালে থেকে উড্ডয়ন করে সন্ধ্যা ৬টা ৫৫মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করবে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকা-মালে রুটে সকল প্রকার ট্যাক্স ও সারচার্জসহ ওয়ানওয়ের নূন্যতম ভাড়া ২৯ হাজার ৫০৮ টাকা এবং রিটার্ণ ভাড়া ৪৫ হাজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মালদ্বীপ ভ্রমণে ইউএস-বাংলা হলিডে প্যাকেজও ঘোষণা করেছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমান বহরে ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও ৭টি ব্র্যান্ডনিউ এটিআর ৭২-৬০০ সহ মোট ১৪টি উড়োজাহাজ আছে। এগুলো দিয়ে তারা অভ্যন্তরীণ সকল রুট ছাড়াও দুবাই, মাস্কাট ও দোহা, প্রবাসী বাংলাদেশী অধ্যুষিত কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেন্নাই, কলকাতা এবং চীনের গুয়াংজুতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। করোনা মহামারিতে বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংকক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। ভবিষ্যত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই কলম্বো, জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম রুটে ফ্লাইট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com