Friday , 19 July 2024
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ

মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক-জনমনে উৎকণ্ঠা

অনলাইন ডেস্ক:

১৮ মার্চ, ১৯৭১। ঢাকার প্রেডিডেন্ট ভবনে পর পর দুই দিন আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ও আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের বৈঠকের পর এদিন কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তী বৈঠকের কোনো সময় নির্ধারিত না হওয়ায় জনমনে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। সারা দিন মিছিলে মিছিলে উত্তাল ছিল সারা বাংলা। সামরিক আদেশও অকার্যকর হয়ে পড়ে। সামরিক বাজেটভুক্ত কর্মচারীরা ১৫ মার্চের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে শাস্তি দেওয়া হবে বলে ১১৫ নম্বর সামরিক আদেশ জারি করে যে হুমকি দেওয়া হয়েছিল তাতে কোনো কাজে আসেনি। কেউ যোগ দেয়নি। সেনাবাহিনীর সদস্যরা তেজগাঁও ও মহাখালীতে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সারা দিন ধরে মিছিলের পর মিছিল বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এসে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়কের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়।

বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে বারবার উঠে এসে মিছিলকারীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা চরম প্রস্তুতি নিয়ে ঘরে ঘরে সংগ্রামী দুর্গ গড়ে তোল। যদি তোমাদের ওপর আঘাত আসে তা প্রতিহত করে শত্রুর ওপর পাল্টা আঘাত হানো।’ জনতাকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘মুক্তিসংগ্রামের পতাকা আরো ওপরে তুলে ধরো। সাত কোটি শোষিত-বঞ্চিত বাঙালির সার্বিক মুক্তি না আসা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাও।’

রাতে সরকারিভাবে সংবাদপত্রে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরদিন সকাল ১১টায় প্রেসিডেন্ট ভবনে শেখ মুজিবুর রহমান ও ইয়াহিয়া খানের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সম্পর্কে তৃতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সন্তোষজনক সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে বলে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এসে সাক্ষাৎ করেন। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আরো সৈন্য আনা হচ্ছে, সে সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু কিছু জানেন কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার দেশের মাটিতে যা কিছু ঘটছে তার সব খবরই আমি রাখি।’

চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মওলানা ভাসানী বলেন, তিনি ৮৯ বছরের জীবনে বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু একটি সর্বজনীন দাবিতে জনগণের মধ্যে বর্তমান সময়ের মতো একতা এবং সহযোগিতা কোনো দিন দেখেননি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ওয়ালি ন্যাপপ্রধান ওয়ালি খান ঘণ্টাব্যাপী রদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পাকিস্তান ন্যাপের সভাপতি গাউস বক্স বেজেঞ্জোও উপস্থিত ছিলেন।

করাচিতে ভুট্টো বলেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান শাসনতান্ত্রিক প্রশ্নে আলোচনার জন্য যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ঢাকা যাওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের কাছে চাওয়া কয়েকটি বিষয়ের ব্যাখ্যা না পাওয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

১৮ মার্চের দিনলিপিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম লিখেছেন, ‘ঢাকা টেলিভিশন স্বাধিকার আন্দোলনকে তুঙ্গে তুলে দিয়েছে অভিনব গানের অনুষ্ঠান দিয়ে। এমন অনুষ্ঠান দেখি নাই কভু। ঢাকার যত প্রথম সারির নামকরা সংগীতশিল্পী—ফেরদৌসী রহমান, সাবিনা ইয়াসমীন, শাহনাজ বেগম, আঞ্জুমান আরা বেগম, সৈয়দ আবদুল হাদী, খোন্দকার ফারুক আহমেদ, রথীন্দ্রনাথ রায় এবং আরো অনেকে মিলে গাইতে থাকেন—‘সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম। চলবেই দিন-রাত অবিরাম’—আর তাঁদের কয়েকটা চেহারা হাজার চেহারা হয়ে যায়; তখন মনে হয় বুকের মধ্যে, ঘরের মধ্যে ঝড় উঠে গেছে। সে ঝড়ের মাতামাতি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।’

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply