সকালবেলা প্রতিবেদক:
জাপান সরকার এবং তাদের বেসরকারি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক কয়লা ও এলএনজি ভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধের দাবিতে গত মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকার মোহাম্মদপুরে শ্যামলী পার্ক মাঠে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা জানান, জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় , জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো—অপারেশন এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো—অপারেশন এজেন্সি এশিয়ার অন্তত চারটি দেশে কয়লা বিদ্যুৎ এবং এলএনজি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য বিনিয়োগ করে আসছে। বাংলাদেশও এই তালিকায় অন্যতম।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জাপানের এই বিনিয়োগ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ—পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে রূপান্তরে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পাশাপাশি এটি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টার পরিপন্থী। এছাড়া, বক্তারা আরও জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসেই জাপানের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের ১৭টি সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’—এর আহ্বানে এই প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেয় এবং জাপান সরকারকে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানায়।
আয়োজক সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল—: ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, ব্রাইটার্স , সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) ,সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পল্যুশন স্টাডিজ (ক্যাপস) ,ইকুইটিবিডি ,গ্লোবাল ল’ থিংকারস সোসাইটি (জিএলটিএস), খাসিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ), মিশন গ্রীন বাংলাদেশ, অর্গানাইজেশন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স। সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে এখনই জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোর উচিত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কার্বন নির্গমন কমাতে সহযোগিতা করা, কিন্তু বরং তারা উল্টো পথে হাঁটছে।
পরিশেষে, সমাবেশ থেকে দাবি জানানো হয়, জাপান যেন জীবাশ্ম জ্বালানির প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধ করে, পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই জ্বালানির প্রকল্পে সহায়তা করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জলবায়ু ন্যায়বিচার অর্জনের পথে সহযাত্রী হয়।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
