প্রেস সচিবের এক বক্তব্যে তোলপাড় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝেও। ৩১ জুলাই প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য আগামী চার-পাঁচ দিন ক্রুশিয়াল।’
তাঁর ওই মন্তব্য ঘিরে চলছে নানান আলোচনা।
বৃহস্পতিবার বিএসআরএফ সংলাপে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘আগামী চার-পাঁচ দিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য একটি ক্রুশিয়াল (খুব গুরুত্বপূর্ণ) সময়।
প্রেসসচিবের বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত সময়টা বাংলাদেশের জন্য ক্রুশিয়াল। যতদিন পর্যন্ত এ দেশে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকার না আসবে, ততদিন পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারীরা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সে বিবেচনা থেকে যদি প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব ক্রুশিয়াল সময় নিয়ে মন্তব্য করে থাকেন তাহলে বিষয়টি খুবই স্পষ্ট।’
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘৫ আগস্ট এ দেশ থেকে দীর্ঘদিনের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটেছিল। সে ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের নেতা, হাসিনার অনুগত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও প্রশাসনের সীমাহীন লুটপাটের কারণে এ কাঠামো ভেঙে যায়। তারা আবার ফিরে আসতে পারে। পলাতক শেখ হাসিনা পাশের দেশে আশ্রয় নিয়ে নিয়মিত এ ধরনের হুমকিধমকি দিচ্ছেন। এসব বিবেচনা থেকে যদি শফিকুল আলম এসব কথা বলে থাকেন তাহলে এটা অবশ্যই ক্রুশিয়াল টাইম।’
একই প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকারের প্রেসসচিব যে কথা বলেছেন, তার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে জুলাই বর্ষপূর্তি হয়েছে। এ বর্ষপূর্তিতে মানুষের মধ্যে জুলাইয়ের স্মৃতি চাঙা হয়েছে। এখন জুলাইয়ের অর্জনটা ধরে রাখার নানান চ্যালেঞ্জ দেখছেন তাঁরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাইয়ের অর্জনটা বানচাল করার জন্য ফ্যাসিবাদী শক্তি ওত পেতে আছে। যেন সরকারকে অস্থির রেখে নির্বাচন বানচাল করা যায়। নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটানো যায়। সংস্কার কার্যক্রম বানচাল করা যায়। আর আইন-শৃঙ্খলার অবনতি করা যায়। যেহেতু সরকারের এক বছর পূর্ণ হয়েছে তার মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপ পরিকল্পনায় নিতে বাধা দেওয়া যায়। মোট কথা সরকারকে অস্থিতিশীল রাখা।’
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এমনও হতে পারে সরকার নিজেদের পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনায় রয়েছে। তবে এর জন্য সবাইকে সতর্ক হতে হবে। বিভাজন তৈরি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত আছি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যে এক বছর ধরে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার ফলাফল পেতে যাচ্ছি আমরা। বহুলপ্রত্যাশিত জুলাই সনদ, ঘোষণাপত্র আসতে যাচ্ছে। যেগুলো আগামীর বাংলাদেশের ভিত্তি ও গতিপথ নির্মাণ করবে। সব মিলিয়েই এ কয়েকটা দিন বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ। এসব বিষয় নিয়ে তেমন কোনো শঙ্কা দেখতে পাচ্ছি না। তবে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া সরকার যদি নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।’
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
