Sunday , 9 August 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
বর্ষা শুরুর আগেই অবৈধ কারেন্ট জালের রমরমা বেচাকেনা

বর্ষা শুরুর আগেই অবৈধ কারেন্ট জালের রমরমা বেচাকেনা

ঝন্টু, তাড়াশ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই হাট—বাজারে প্রকাশ্যে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে। সা¤প্রতিক সময়ে বৃষ্টি ও জোয়ারে নদী—খালে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সেই সুযোগে বিভিন্ন হাটে শিকারিদের ভিড় বেড়েছে, আর তাঁরা মাছ শিকারে ব্যবহার উপযোগী নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল কিনছেন অনায়াসে।

কারেন্ট জাল: নিষিদ্ধ কিন্তু সহজলভ্য: ‘মনোফিলামেন্ট ফিশিং নেট’ নামে পরিচিত এই জাল দেখতে এতটাই সূক্ষ্ম যে, জলজ প্রাণীরা তা সহজে শনাক্ত করতে পারে না। এর গঠন এমন যে, মাছ সহজেই জালে আটকে পড়ে। ফলে একে কারেন্ট জাল বলা হয়। এই জাল দেশের মৎস্য আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও তাড়াশের বাজারে এটি দিব্যি বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিনে তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন হাটে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানি নির্দ্বিধায় কারেন্ট জাল বিক্রি করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানান, প্রতিকেজি কারেন্ট জালের দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।

এসব জালের অধিকাংশই উল্লাপাড়ায় উৎপাদিত হয় এবং সেখান থেকে এনে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়।
মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই জালে ছোট—বড় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। এমনকি ডিমওয়ালা দেশি প্রজাতির মাছও নিধন হচ্ছে এই জালের ফাঁদে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৯ সেন্টিমিটারের ছোট মাছ ধরা নিষেধ হলেও বাস্তবে সেই আইন মানা হচ্ছে না। এতে দেশের মৎস্যসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষার শুরু থেকেই কারেন্ট জালের মাধ্যমে মাছ ধরা শুরু হয়। বন্যার সময় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরার তৎপরতাও বৃদ্ধি পায়। মাছ শিকারিরা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করছেন নিজেরাই না জেনেই।

আইন ও প্রশাসনের অবস্থান: ২০০২ সালে প্রণীত মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের ৪(১) ধারা অনুযায়ী, কারেন্ট জালের উৎপাদন, আমদানি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন ভঙ্গ করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ১৯৮৫ সালের মৎস্য সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী, ৪.৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট ফাঁসবিশিষ্ট জাল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মশগুল আজাদ জানান, অবৈধ কারেন্ট জালের বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। শিগগিরই প্রতিটি হাট ও বাজারে অভিযান চালিয়ে এসব জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হবে।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানান, যারা অবৈধভাবে কারেন্ট জাল বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সচেতনতা জরুরি: সাধারণ মানুষ, মৎস্যজীবী ও বিক্রেতাদের মধ্যে আইনি সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এবং প্রশাসনের নজরদারি না থাকলে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধ করা সম্ভব নয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এখনই সময় কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply