Sunday , 9 August 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
রংপুরে কেজিতে ৪—৫ টাকা বেড়েছে চালের দাম

রংপুরে কেজিতে ৪—৫ টাকা বেড়েছে চালের দাম

রংপুর ব্যুরোঃ
রংপুরের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কিছু সবজি ও পাকিস্তানি সোনালি জাতের মুরগির দামও। তবে অপরদিকে, পোলট্রি ডিমের দাম সামান্য কমেছে। এ ছাড়া মাছ, মাংস, ডাল, আটা, ময়দা ও তেলের দাম তুলনামূলকভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়ে গেছে। গুটি স্বর্ণা (মোটা) ৪৮—৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫২—৫৪ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) বিক্রি হচ্ছে ৫৮—৬০ টাকা, বিআর২৮ চালের দাম ৬০—৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০—৭৫ টাকায় উঠেছে। জিরাশাইল ৬৮—৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭২—৭৫ টাকা, মিনিকেট ৮০—৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫—৯০ টাকা এবং নাজিরশাইল ৯০—৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম প্রসঙ্গে সিটি বাজারের চাল বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, বর্তমানে ধান—চালের মৌসুম চলছে, ফলে এই সময়ে দাম কম থাকার কথা ছিল। কিন্তু এর বিপরীতে, গত সপ্তাহের তুলনায় হঠাৎ প্রায় সব ধরনের চালের দামই কেজিতে ৪—৫ টাকা করে বেড়ে গেছে। এদিকে মুরগির বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির দাম আগের মতোই ১৫০—১৬০ টাকায় রয়েছে। তবে পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ২৫০—২৬০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২৮০—৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি হাইব্রিড মুরগির দাম ২৩০—২৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬০—২৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে পূর্বের মতোই ৫৫০—৫৮০ টাকা কেজি দরে।

গরুর মাংসের দাম ৭২০—৭৫০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১০০০—১২০০ টাকা কেজিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। লালবাগ বাজারের মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন জানান, সোনালি মুরগির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় এর দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, পোলট্রি মুরগির ডিমের দাম সামান্য হ্রাস পেয়েছে। পাইকারি বাজারে ডিমের হালি ৩৫—৩৬ টাকা এবং খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৮—৪০ টাকা হালিতে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০—৪২ টাকা। সবজি বাজারেও দামের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। টমেটোর দাম প্রতি কেজি ৭০—৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১০—১২০ টাকা। গাজর ১৮০—২০০ টাকা কেজিতে আগের মতোই রয়েছে, কাঁকরোলও ৩৫—৪০ টাকায় রয়েছে।

তবে ঝিঙ্গার দাম ২৫—৩০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫—৪০ টাকা। চালকুমড়া (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ২৫—৩০ টাকা কেজিতে এবং কাঁচকলা হালি প্রতি ২৫—৩০ টাকায় মিলছে। এ ছাড়াও সজনে ৮০—৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০—১২০ টাকা কেজি, চিকন বেগুন আগের মতো ৩৫—৪০ টাকা, গোল বেগুন ৫০—৬০ টাকা, ঢেঁড়স ও পটল ২৫—৩০ টাকা, বরবটি ৩০—৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০—৬০ টাকা, পেঁপে ৩৫—৪০ টাকা, শসা ৩৫—৪০ টাকা এবং করলার দাম ৩০—৩৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০—৫০ টাকা। লাউ (আকারভেদে) ২৫—৪০ টাকা, কচুরলতি ৩০—৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০—৫০ টাকা, কচুমুখী ৪০—৫০ টাকা, লেবুর হালি ১০—১৫ টাকা, ধনেপাতা ৮০—১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮০—২০০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ২৫—৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে কাঁচামরিচের দাম ৩০—৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০—৫০ টাকা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম আগের মতোই ৫০—৫৫ টাকা, আদা ১২০—১৪০ টাকা, দেশি রসুন ১২০—১৪০ টাকা, শুকনো মরিচ ৩৫০—৪০০ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের শাক ১০—২০ টাকা অঁাটি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর বাজারেও কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। কার্ডিনাল আলু এখনও ১৮—২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, তবে শিল আলুর দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫—৫০ টাকা। ঝাউ আলু ৩০—৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০—৫৫ টাকা এবং দেশি সাদা ও বগুড়ার লাল পাগড়ি আলু ২৫—৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০—৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মুলাটোল আমতলা বাজারের সবজি বিক্রেতা হেলাল মিয়া জানান, বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছু সবজির দাম বেড়ে গেছে। তেলের বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮০—২০০ টাকা দরে আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে। ডালের বাজারে মসুর ডাল (চিকন) ১৩০—১৪০ টাকা, মাঝারি ১০০—১১০ টাকা, মুগডাল ১৬০—১৮০ টাকা, বুটের ডাল ১২০—১৩০ টাকা, ছোলাবুট ১০০—১১০ টাকা, চিনি ১১৫—১২০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫০—৫৫ টাকা, খোলা আটা ৪০—৪৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫—৭০ টাকা কেজি দরে মিলছে।

অবশেষে মাছের বাজারে দেখা গেছে, রুই মাছ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৮০—৩৮০ টাকা কেজিতে, মৃগেল ২৪০—২৬০ টাকা, কার্পু ২২০—২৫০ টাকা, পাঙাস ১৫০—১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০—১৬০ টাকা, কাতল ৪০০—৪৫০ টাকা, বাটা ১৬০—১৮০ টাকা, শিং ৩০০—৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০—২৬০ টাকা এবং গছিমাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০—১০০০ টাকা কেজি দরে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply