মো. রবিউস সানি আকাশ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে অবশেষে শুরু হয়েছে লক্ষ্মীপুর শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ। প্রায় ১৮’কিলোমিটার দীর্ঘ খানাখন্দভরা সড়ক বর্তমানে মেরামত বা রিপেয়ারিংয়ের আওতায় এসেছে। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি ও অব্যাহত যানবাহনের চাপে সড়কটির বেহাল দশা দেখা দিয়েছিলো। একসময় এ সড়ক দিয়ে চলাচল ছিলো যেনো আতঙ্কের নামান্তর। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ এমনকি এ প্রতিবেদক নিজেও বাসে যেতে সিট থেকে সটকে পড়েছেন একাধিকবার, সাধারণ জনগণের হোঁচট খেয়ে, যানজটে পড়ে বা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হতো। কিন্তু এখন দৃশ্যপট ভিন্ন। সড়কের সংস্কার কাজ দৃশ্যমান হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করেছি। এখন কাজ শুরু হওয়ায় মনে হচ্ছে সত্যিই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে।”
*সংস্কার কাজে সচেষ্ট সড়ক বিভাগ
লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগ ইতোমধ্যেই ভাঙাচোরা অংশ কেটে ফেলা, নতুন বিটুমিন কার্পেট বসানো এবং ড্রেনেজের পানিনিষ্কাশন নিশ্চিত করার কাজে হাত দিয়েছে। মেরামত কার্যক্রমে শ্রমিকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন মো: রবিউস সানি আকাশকে বলেন,”বর্ষার অতিবৃষ্টির কারণে সড়কটির অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে আমরা দ্রুত রিপেয়ারিংয়ের কাজ হাতে নিয়েছি। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে এবং তখন জনগণ নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে।” অপরদিকে লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম সকালবেলা’কে বলেন, লক্ষ্মীপুর বাস স্ট্যান্ড হতে চন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি ৪ লেনে উন্নীতকরণের জন্য ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। উক্ত দরপত্রের টেকনিক্যাল মূল্যায়ন ইতিমধ্যে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করা যায় দরপত্র মূল্যায়ন অনুমোদন হলে বড় ধরনের কাজ করা সম্ভব হবে। দরপত্র মূল্যায়ন অনুমোদনের পর্যন্ত জনসাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার জন্য বিভাগীয়ভাবে ইতিমধ্যে এ সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি বৃষ্টি না হলে এক সপ্তাহের মধ্যে চন্দ্রগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার করা সম্ভব হবে।
* জনসাধারণের মুখে আনন্দের ঝিলিক
সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তির বাতাস বইছে। স্থানীয় দোকানদার আব্দুল কাদের বলেন, “আগে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকতাম। ক্রেতারা দোকানে আসতে অনীহা প্রকাশ করতো। এখন সড়ক ঠিক হলে ব্যবসায়ও গতি আসবে।” একইভাবে স্কুলগামী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, “প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় ভয়ে থাকতাম, কখন পড়ে যাই! এখন দেখছি রাস্তা মেরামত হচ্ছে। আমাদের জন্য এটা অনেক বড় সুখবর।”
* জনগণের প্রত্যাশা
সাধারণ মানুষ আশা করছে, শুধু এই সংস্কার নয়, ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সড়ক বিভাগের কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত। যাতে বৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত যানবাহনের চাপেও রাস্তা সহজে নষ্ট না হয়। সেই সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি, রাস্তার দুপাশে আলো এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলোরও সমাধান দেখতে চান তারা।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
