Thursday , 16 July 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
একদিকে বাঁধ নির্মাণ, অন্যদিকে বালুমহাল ইজারা
পদ্মার ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

একদিকে বাঁধ নির্মাণ, অন্যদিকে বালুমহাল ইজারা

পদ্মার ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে সরকার যখন একদিকে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করছে, ঠিক তখনই শরীয়তপুরে একই নদীতে বালুমহাল ঘোষণা করে বালু উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই পরস্পরবিরোধী কর্মকাণ্ডে নদীতীরবর্তী জনপদের মানুষ পড়েছেন তীব্র উৎকণ্ঠায়। ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স¤প্রতি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন পরিদর্শনে যান সেতু উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির। তিনি সরেজমিন পরিস্থিতি দেখে স্পষ্টভাবে জানান, “নদী থেকে যেন কোনোভাবেই বালু উত্তোলন না করা হয়।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা হয়, তাহলে নদীর গতি ও গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভাঙন তীব্রতর হতে পারে। এই ধরনের পরিবর্তনের কারণে নদীর প্রবাহ নতুন করে জনবসতির দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের ৭৭ নম্বর কাঁচিকাটা মৌজায় ২২ দশমিক ৬৩ একর নদীজুড়ে বালুমহাল ঘোষণার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর আগে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে একই ইউনিয়নের বাঘাইয়া মৌজায় ১৫ একর নদী এলাকায় বালুমহাল ঘোষণা করে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। যদিও, তখন স্থানীয় জনগণের প্রবল প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের কারণে এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞায় প্রশাসন ইজারা বাতিল করতে বাধ্য হয়। এবার পুনরায় একই এলাকায় নতুনভাবে বালুমহাল ঘোষণার উদ্যোগে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। গত ২৭ মার্চ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বালুমহাল ইজারার দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। একই দিন তিনি বিভাগীয় কমিশনার বরাবর অনুমতির জন্য লিখিত প্রস্তাবও পাঠান।

অন্যদিকে, এই ঘোষণার প্রতিবাদে কাঁচিকাটা এলাকার শত শত মানুষ মানববন্ধন, নদীর পাড়ে অবস্থান কর্মসূচি ও মৌন প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আরও বলেন, “ভবিষ্যতে বৈধভাবে যদি ১০টি বোট দিয়ে বালু তোলা হয়, তবে সেটা বেড়ে ১০০ বোট হতে সময় লাগবে না। ফলে আমাদের জনপদ সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।” এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকেও বালু উত্তোলনের বিষয়ে সতর্কতা জানানো হয়েছে। পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেক হাসান বলেন, “আমরা জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিছু নিয়মনীতি আছে। বালু উত্তোলনের আগে হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে। তা না হলে নদীর স্বাভাবিক গতি পরিবর্তিত হয়ে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।” এছাড়াও, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার নাওডোবা থেকে ভেদরগঞ্জের চরসেনসাস হয়ে পদ্মা নদী প্রবাহিত হয়েছে।

নদীর দুই তীরে শরীয়তপুর জেলার তিনটি উপজেলার অন্তত ২১টি ইউনিয়ন রয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার। গত ১০ বছরে পদ্মার ভাঙনে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এ সময়ের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন সংবাদকর্মীদের জানান, “বালুমহাল ঘোষণার আগে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর ও মৎস্য বিভাগ থেকে মতামত নিয়েছি। তারা সবাই ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছে, কেউ কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেনি। সুতরাং অনুমতির জন্য আমরা কমিশনার বরাবর আবেদন পাঠিয়েছি। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply