লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অস্ত্র বহন ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তে চালানো এক বিশেষ অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ এক যুবককে আটক করেছে বিজিবি। তবে অভিযানের সময় আরও দুই সন্দেহভাজন কৌশলে পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিজিবি সূত্র জানায়, তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির একটি টহলদল ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সীমান্ত মেইন পিলার-৮৪৬-এর সন্নিকটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আউলিয়ার হাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মোঃ আতিক হাসান (২৫) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি পাটগ্রাম উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্ত বাজারের বাসিন্দা।
অভিযানের সময় আটককৃত আতিক হাসানের কাছ থেকে একটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র (দৈর্ঘ্য ২ ফুট ৪ ইঞ্চি, প্রস্থ ২ ইঞ্চি) এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। বিজিবির প্রাথমিক ধারণা, অস্ত্রটি আত্মরক্ষার চেয়ে সীমান্তসংলগ্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই বহন করা হচ্ছিল। পলাতক দুইজন ও সংঘবদ্ধ চক্রের সন্দেহ : অভিযান চলাকালে আতিক হাসানের সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তি দ্রুত সীমান্ত এলাকার ভেতরে পালিয়ে যায়। পলাতকরা হলেন—মোঃ জুলফিকার আলী (৩৫) ও মোঃ রহিদুল (৪২)। তারাও ইসলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র।গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই তিনজন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক চলাচল, চোরাচালান সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ সীমান্তকেন্দ্রিক চক্রের অংশ হতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
অস্ত্র বহনের উদ্দেশ্য ও চোরাচালান সংযোগ তদন্তে : আটক ব্যক্তির কাছে ধারালো অস্ত্র বহনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর সঙ্গে চোরাচালান, মাদক কিংবা সীমান্ত অপরাধের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না-তা খতিয়ে দেখছে বিজিবি ও পুলিশ। একই সঙ্গে পলাতক দুইজনকে গ্রেপ্তারে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, আটক আসামী ও উদ্ধারকৃত মালামাল আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাটগ্রাম থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। সীমান্তে অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালান সংশ্লিষ্ট যেকোনো অপরাধ কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও জানায় বাহিনীটি।
পুলিশের বক্তব্য : এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক বলেন, বিজিবি কর্তৃক আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত মালামাল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
