মোঃ ইব্রাহীম খলিল
গাজীপুর প্রতিনিধি
খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় মৎস্য খাতের অবদান অনস্বীকার্য-গাকৃবি ভিসি
‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাছের পুষ্টি, মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য খাতের অবদান তুলে ধরে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) নানা আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬। এরই ধারাবাহিকতায় গাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে র্যালি, আলোচনা সভা ও পোনা অবমুক্তকরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি।
মৎস্য পক্ষের কর্মসূচিকে প্রাণবন্ত করে তুলতে ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষদীয় চত্বরে এসে শেষ হয়। র্যালিতে অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বৃহৎ অংশগ্রহণ ছিল।
র্যালিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল মৎস্য সম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য বিষয়ক নানা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন। কেউ ছিলেন মাঝির বেশে, কেউ মৎস্যজীবী, আবার কেউ গবেষকের ভূমিকায়। তাঁদের স্লোগান ও প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। একই সঙ্গে মৎস্য যে শুধু খাদ্য নয়, বরং পুষ্টি, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস সেই বার্তাও উঠে আসে শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনায়।
র্যালি শেষে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং প্রক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম। এতে সভাপতিত্ব করেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফারহানা হক। র্যালি ও পোনা অবমুক্তকরণ কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোঃ নুরুন্নবী মন্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অনুষদীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা পর্বের শুরুতে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং অনুষদের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোঃ আমজাদ হোসেন বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তাঁরা মাছের অসাধারণ পুষ্টিগুণ, নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন, মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় মৎস্য খাতের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য বিজ্ঞানীদের অনস্বীকার্য রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “মৎস্য খাত বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, আমাদের লক্ষ্য হতে হবে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই মৎস্য উৎপাদন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আইওটি এবং ন্যানো প্রযুক্তি ভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করতে হবে। উপাচার্য আরো বলেন, সরকার এ মৎস্য খাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে বিধায় এ বছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে গিয়ে এবারের মৎস্য পক্ষ উদযাপনের শুভ উদ্বোধন করেছেন।’’ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে জ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।”
অনুষদীয় ডিন প্রফেসর ড. ফারহানা হক এর সমাপনী বক্তব্য শেষে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের জলাশয়ে উপাচার্য সহযোগে রুই, কালিবাউশ, মৃগেল, সরপুটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা অবমুক্ত করা হয়।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এর আগে ১৭ আগস্ট, ২০২৬ গাজীপুর জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও গাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের যৌথ উদ্যোগে অনুষদের সম্মেলন কক্ষে ‘মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গাজীপুর জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মৎস্য কর্মকর্তাবৃন্দের পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য চাষী, উদ্যোক্তা এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এতে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ৩০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কর্মসূচিতে যুক্ত হবে ভিন্নমাত্রার উৎসবের আমেজ।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
