Monday , 15 July 2024
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
আজ মুক্তাগাছা মুক্ত দিবস
--প্রেরিত ছবি

আজ মুক্তাগাছা মুক্ত দিবস

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: আজ ১০ ডিসেম্বর মুক্তাগাছা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করা হয় মুক্তাগাছা। রক্তক্ষয়ী দীর্ঘ ৯ মাস সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মুক্তাগাছা শত্রুমুক্ত হয়। যুদ্ধ চলাকালে পাকবাহিনীর বর্বরতা আর নির্মম অত্যাচার,নির্যাতন, গণহত্যায় স্তব্ধ হয়ে যায় মুক্তাগাছার জনপদ। সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের
সকল বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে যখন পাকবাহিনী ১৯৭১ সলের ২৩শে এপ্রিল শুক্রবার
দুপুর ১২ টার দিকে জিপ ও ট্রাকের এক বহর নিয়ে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ
যাওয়ার পথে দখল করে নেয় মুক্তাগাছা। পাকবাহিনীরা মুক্তাগাছায় প্রবেশ করার সময়
রাস্তার দুই পাশের জনবসতির উপর গুলিবর্ষণ করে। মুক্তাগাছার বিভিন্ন স্থানে
অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। ৭০ এর নির্বাচনে স্থানীয় ভাবে নির্বাচিত প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য খোন্দকার আবদুল মালেক শহীদুল্লাহ হানাদার বাহিনী প্রতিরোধে গড়ে তুলেন প্রতিরোধের দূর্গ। সামরিক সজ্জায় বলিয়ান না হলেও স্থানীয়ভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি সামরিক কায়দায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। খাদ্যের যোগান দেন ময়মনসিংহ
ইপিআর ক্যাম্পে অবস্থানরত বাঙ্গালী জওয়ানদের। ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন থেকে ৫০টি রাইফেল ও প্রচুর গোলাবারুদ সংগ্রহ করে প্রথমে তার নিজ বাড়ি নন্দীবাড়ীতে প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করেন। এ সময় তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন শিশির কুমার রক্ষিত, সুভাষ চন্দ্র রক্ষিত, ফজলুল হক দুদু, আবদুল হাই আকন্দ, শ্রমিক নেতা হায়াতুল্লাহ ফকির, মহিউদ্দিন আহম্মদ,হুলাস চান আগরওয়ালা, আব্দুর রহিম খান বাদশা, আবুল কাসেম, বছির উদ্দিন, বছির উদ্দিন, হাবিবুর রহমানসহ আরো অনেকে। এদের মধ্যে অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই। ২৯ মার্চ মেজর শফিউল্লাহ (জেনারেল ও সেনাপ্রধান হন) তার বাহিনীসহ
মুক্তাগাছায় এসে মহাবিদ্যালয়ে (বর্তমানে মুক্তাগাছা শহীদ স্মৃতি সরকারী
কলেজ) স্থাপন করেন অস্থায়ী ক্যাম্প। সেই সঙ্গে চালু হয় অস্থায়ী প্রশিক্ষণ শিবির।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নায়েক
আবু রুশদ। পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার রফিজ
উদ্দিন রেফাজ ও সুবেদার আবদুল হামিদ। এই প্রশিক্ষণ শিবির থেকে বাছাই করা হয় ২৭ জন দু:সাহসী তরুনদের একটি দল। পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর জন্য ১০ এপ্রিল মধুপুরে অবস্থানরত অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেয় এই দল। অবশেষে খোন্দকার আবদুল মালেক শহিদুল্লাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সহযোগী লোকজন হালুয়াঘাট সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধের জন্য পাঠান
এ অঞ্চলে। ২রা আগষ্ট স্থানীয় দালাল রাজাকার আলবদরদের সঙ্গে নিয়ে পাকবাহিনী মুক্তাগাছার ১০টি গ্রামে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে ৩ শতাধিক নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। শহরের জমিদার বাড়ির ইদারা (কুপ), ময়লাখানা মাঝিপাড়া, মুজাটি, মহেশপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা সংগঠিত হয়। বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ যুদ্ধও সংগঠিত হয়। ভিটিবাড়ি গ্রামে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে পাকবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ ছিল সবচাইতে দু:সাহসিক। মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা তান্ডবে ৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত্রে টাঙ্গাইলের পথে পালিয়ে যায় হানাদার বাহিনী। ১০ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী জনতা মুক্তির পতাকা প্রকম্পিত করে তুলে। হানাদার মুক্ত হয় মুক্তাগাছা। এ বছর দিবসটি পালনের লক্ষ্যে মুক্তাগাছা উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানান
কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply