সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আজ দেশের মানুষ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উনার স্বাস্থ্য নিয়ে, উনার জীবন নিয়ে। গতকাল আমি বলেছিলাম, উনার একমাত্র জীবিত পুত্র তারেক রহমান দেশে আসছেন না কেন? মায়ের কাছে থাকার জন্য, মাকে দেখার জন্য কেন তিনি দেশে ফিরছেন না? প্রশ্ন আসে, যখন মা এতটাই সংকটাপন্ন তখন তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না কেন? তারেক রহমানের না ফেরার পেছনে কি ডিপ স্টেট? এই না আসার পেছনে কি ডিপ স্টেটের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে? ডিপ স্টেট এটা আসলে কী? এই আলোচনা এখন করতে হয়তো বাধ্য হচ্ছি।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মাসুদ কামাল এসব কথা বলেন।
মাসুদ কামাল বলেন, কদিন আগে সজীব ওয়াজেদ জয় বিবিসি বাংলাকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, বাংলাদেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য বিদেশ থেকে একটি অগণতান্ত্রিক তৎপরতা চলছে। জয়ের মতে, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ—দুটো দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার একটি খেলা চলছে।
মাসুদ কামাল বলেন, সরকার বলছে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো বাধা নেই। রাষ্ট্র যন্ত্রের বিভিন্ন স্তর থেকেও বলা হচ্ছে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আইনি জটিলতাও নেই, কারণ ট্রাভেল পাস একদিনেই দেওয়া সম্ভব। দৃশ্যমানভাবে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই, কোনো শক্ত বাধাও নেই। তারপরও একটা অদৃশ্য বাধা যেন কাজ করছে। যেন কোথাও কিছু আটকে আছে, যার কোনো দৃশ্যমান ব্যাখ্যা নেই।
এই অদৃশ্য বাধাই ডিপ স্টেটের বৈশিষ্ট্য। ডিপ স্টেট এমন একটি শক্তি, যাকে দেখা যায় না, কিন্তু যে আড়াল থেকে ঘটনাপ্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে। তার উপস্থিতি প্রকাশ্যে প্রমাণ করা যায় না, আবার একেবারে অস্বীকারও করা যায় না। এটি এমন একটি শক্তি, যার কর্মকাণ্ডে কোনো জবাবদিহিতা নেই, কিন্তু যার সিদ্ধান্তের প্রভাব রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। নির্দেশ কখনো আসে অজানা উৎস থেকে, আবার যারা নির্দেশ পালন করে তারাও প্রায়শই জানে না তারা কার স্বার্থ পূরণ করছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে ‘আয়না ঘর’-এর কথা আমরা শুনেছি, মানুষ হঠাৎ করে হারিয়ে যেত। পুলিশ বলত, তারা নেয়নি। র্যাব বলত, তারাও নেয়নি। কিন্তু মানুষটা কোথায় গেল, সেটার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যেত না। কারা নিয়েছে, কেন নিয়েছে, কোথায় রেখেছে—সবই অদৃশ্য। অথচ ঘটনাটা ঘটত। এই অদৃশ্য শক্তির কার্যকারিতাই ছিল ডিপ স্টেটের উপস্থিতির প্রমাণ। আজও সেই অদৃশ্য শক্তি কোথাও না কোথাও ভূমিকা রাখছে বলেই মনে হচ্ছে। না হলে সরকারের কোনো আপত্তি নেই, রাষ্ট্রের কোনো বাধা নেই, আইনের কোনো জটিলতা নেই—তার পরও কেন তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না? কেন তিনি নিজেও বলছেন যে এটি তার একক সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়? কেন তিনি “স্পর্শকাতর বিষয়” বলে সব ব্যাখ্যা এড়িয়ে যাচ্ছেন?
এই প্রশ্নগুলোই ইঙ্গিত করে যে দৃশ্যমান রাজনীতি নয়, অদৃশ্য রাজনীতিই বর্তমানে বেশি সক্রিয়। আবারও কি সেই মাইনাস-টু ফর্মুলা নতুন রূপে ফিরে আসছে? আবারও কি দুই পরিবারকে রাজনীতি থেকে সরানোর পরিকল্পনা চলছে? আর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ কি তারেক রহমানের দেশে ফেরা থামিয়ে রাখা? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আমরা হয়তো খুব শিগগিরই পেয়ে যাব। তবে আমার উপলব্ধি ডিপ স্টেট এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অত্যন্ত সক্রিয় এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
