ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » উন্নত দেশগুলোকে অঙ্গীকার পূরণ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
উন্নত দেশগুলোকে অঙ্গীকার পূরণ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
--সংগৃহীত ছবি

উন্নত দেশগুলোকে অঙ্গীকার পূরণ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক:

দক্ষিণ-দক্ষিণ উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচিতে সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়ন অঙ্গীকার পূরণ করতে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল শুক্রবার ফ্রান্সে ‘প্যারিস পিস ফোরামে (পিপিএফ)’ ‘সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার কো-অপারেশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় এই আহ্বান জানান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী প্যারিসে ইউনেসকো সদর দপ্তরে ‘ইউনেসকো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ প্রদান করেন। সৃজনশীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় উগান্ডার কাম্পালার মোটিভ ক্রিয়েশনস লিমিটেড ওই পুরস্কার পেয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে মোটিভ ক্রিয়েশনসের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন কোয়ান গুজি। পুরস্কার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ইউনেসকোর স্বীকৃতি সম্মানের পাশাপাশি ৫০ হাজার ডলার পেয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, ইউনেসকো মহাপরিচালক অড্রে আজুল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বসম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশ অবদান রাখতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার প্যারিস ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে অঙ্গীকার পূরণে উন্নত দেশগুলোর পিছিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘অনেক উন্নত দেশ এখনো তাদের আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে রয়েছে। তাদের জন্য দক্ষিণ-দক্ষিণ উন্নয়ন সহযোগিতা কার্যক্রমকে সমর্থন করা তাদের নিজস্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি উপায় হতে পারে।’

২০১৯ সালে একটি ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ জ্ঞান ও উদ্ভাবন কেন্দ্র’ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটি দক্ষিণে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রযুক্তিগত সমাধান সৃষ্টিতে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ, জি-২০ এবং ওইসিডিকে এই ধরনের দূরদর্শী প্রস্তাবগুলোতে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

বিশ্বব্যাপী বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে অসম প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কভিড মোকাবেলায় টিকার বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি টিকা উৎপাদনে মেধাস্বত্বে ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী কভিড মহামারির সময় বাংলাদেশ থেকে কয়েকটি দেশে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ও একটি ক্ষেত্রে টিকা দেওয়ার জন্য কর্মী বাহিনী পাঠানোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক বছর ধরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে তার নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময় করার জন্য কাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃষি, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, প্রজনন স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানে আমাদের অর্জন বিশ্বের অন্যান্য অংশে পৌঁছে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ২০ বছরে আমাদের কাজের ওপর ভিত্তি করে, আমরা জাতিসংঘের উদ্যোগে ভ্রাতৃপ্রতিম আফগান জনগণের জন্য মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত হওয়ায় প্রস্তাব দিয়েছি।’

বাংলাদেশ সব সময়ই বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) স্বার্থ তুলে ধরেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা এখন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছি এবং ‘গ্লোবাল সাউথের’ প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিনের এবং প্রমাণিত।”

ইউনেসকোর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর চার দফা প্রস্তাব : বিশ্বমানবতার কল্যাণে শক্তিশালী অংশীদারি গড়ে তুলতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল বিকেলে ইউনেসকোর ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্যারিসে সংস্থাটির সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান। ইউনেসকো মহাপরিচালক আদ্রে অ্যাজুলের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে ফ্রান্সসহ ২০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন।

সংকট কাটিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে চার দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। ডিজিটাল সরঞ্জাম ও সেবা, ইন্টারনেট সুবিধা, ডিজিটাল বিষয়বস্তু এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে শেখানোয় অগ্রাধিকার দিতে একটি বৈশ্বিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

প্রস্তাবের দ্বিতীয় দফায় শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তি সহায়ক অর্থবহ শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টিতে পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারদের অবশ্যই এক হতে হবে। তৃতীয় দফা প্রস্তাবে তিনি বলেন, “কভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে অবশ্যই ‘বৈশ্বিক পাবলিক পণ্য’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আমাদের অবশ্যই শিক্ষার্থী ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদেরসহ সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে হবে।” প্রস্তাবের চতুর্থ দফায় শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কল্যাণের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুবিধাকে কাজে লাগাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে অন্য সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। রাতে তিনি অন্য সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিরল’ সম্মান : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বরাত দিয়ে বাংলানিউজ জানায়, প্যারিস সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফ্রান্স এবার ‘বিরল’ সম্মান দেখিয়েছে।

প্যারিসে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর এটি ঐতিহাসিক সফর। এ সফরে তিনি যে সম্মান পেয়েছেন, এ ধরনের সম্মান আগে কখনো বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান পাননি।

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা বলেন, একসময় বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা ছিল যে বাংলাদেশ দারিদ্র্যপীড়িত, দুর্যোগপ্রবণ, সেই ভাবমূর্তি কেটে গেছে।’

বিভিন্ন দেশকে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ হচ্ছি, আমরা একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছি। আমরা অনেক দেশকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া শুরু করেছি।’

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com