ব্রেকিং নিউজ
Home » অর্থনীতি » কৃষি » কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করায় কৃষি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করায় কৃষি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করায় কৃষি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কৃষি সেক্টরে স্বনির্ভর হচ্ছে দেশ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধিন সারাদেশে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন দপ্তর সম্মিলিত ভাবে কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর আওতাধীন সকল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তর সমূহ একযোগে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছে। বাড়ছে মানুষ, কমছে কৃষি জমি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটাতে নির্ভরতা বাড়ছে কৃষির ওপর। কিন্তু নির্ভরতা বাড়লেও বাড়ছে না ফসলি জমি। আর তাই তো কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে নানান উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ আধুনিক কৃষিযন্ত্র প্রদর্শন ও ব্যবহার করে প্রদর্শনী ক্ষেতে ফসল উৎপাদন করে কৃষকদের অনুপ্রাণিত করছেন। সেই সাথে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন প্রকল্প ও ভর্তুকির আওতায় উপজেলার কৃষকদের দেয়া হচ্ছে আধুনিক কৃষিযন্ত্র। চলতি রোপা আমন মৌসুমে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ইয়ানমার রাইস ট্রান্সপ্লান্ট দ্বারা জমিতে ধানের চারা লাগানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নাগেশ্বরী উপজেলায় বিভিন্ন কৃষক গ্রুপের মাঝে ১৭ টি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার বিতরণ করা হয়েছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে চারা রোপণের জন্য সনাতন পদ্ধতির ব্যবহার না করে রোপণ যন্ত্রের মাধ্যমে চারা রোপণ করছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক। এসময় ধান চাষীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, শ্রমিক দিয়ে চারা রোপণের অর্ধেক খরচে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছি। যন্ত্রের মাধ্যমে কম চারা দিয়ে সঠিক দূরত্বে জমিতে রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। সমানভাবে সঠিক দূরত্বে চারা রোপণের ফলে ক্ষেতের পরিচর্যা করা সহজ হবে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে লাগানো ধানের চারা গাছগুলো সবুজ সতেজতায় দ্রুত বেড়ে ওঠছে। আমরা আশা করি যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে কম খরচে এবারে আমরা বেশি ফলন পাব। কৃষকরা এই প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান এসিআই মটরস এর সেলস্ ম্যানেজার আতিয়ার রহমান জানায়, আধুনিক ইয়ানমার রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহারে ২ ঘন্টায় ১ একর জমিতে ধানের চারা রোপন করা যায়। একর প্রতি জ্বালানি খরচ ২ থেকে আড়াই লিটার। ইয়ানমার রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহারে চারা রোপন করলে লাইন সোজা হয়। চারা থেকে চারার দুরুত্ব নির্দিষ্ট থাকে ফলে পরবর্তীতে আগাছা নিংড়ানো, সার ও কীটনাশক ছিটানো ও এমনকি ধান কাটা সহজ হয়। নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেন্দ্রনাথ রায় জানায়, নাগেশ্বরী উপজেলায় সরকারি ভাবে ১৭টি ইয়ানমার রাইস ট্রান্সপ্লান্টার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। প্রথমবারের মত যান্ত্রিকভাবে রাইস ট্রান্সপ্লান্ট যন্ত্রের সাহায্যে চলতি মৌসুমে আমন ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে খরচ ও সময় কম লাগায় স্থানীয় কৃষকরা এ যন্ত্রের সাহায্যে চারা লাগানোয় আগ্রহ বাড়ছে। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার জন্য আমরা কৃষকদের বিভিন্ন প্রকল্প ও ভর্তুকির আওতায় কৃষি যন্ত্র দিচ্ছি। কৃষিতে শ্রমিক নিভর্রতা কমিয়ে যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে কম খরচে ফসল উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছেন এখানকার কৃষকরা। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ীর উপ-পরিচালক মোঃ মঞ্জুরুল হক জানায়, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখার লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর আওতাধীন সকল দপ্তর সমূহ এবং কর্মরত জনবল কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি যান্ত্রিকিকরণের ফলে আধুনিক সুযোগ সুবিধা দ্বারা কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে। ইয়ানমার রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্র ইতোমধ্যে সকল উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। প্রযুক্তি জ্ঞান নিয়ে কৃষকরা প্রতিনিয়ত কৃষি কাজে অগ্রসর হচ্ছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*