ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » গুমের বিষয়ে বাস্তবসম্মত তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ

গুমের বিষয়ে বাস্তবসম্মত তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক:

গুমের অভিযোগের বিষয়ে গত এক বছরে বাস্তবসম্মত তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। আর একে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলতি অধিবেশনে আলোচনার জন্য গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ওয়ার্কিং গ্রুপ গত বছরের ২২ মে থেকে এ বছরের ১৩ মে পর্যন্ত তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

আগামী মঙ্গলবার ওই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি এ নিয়ে মানবাধিকার পরিষদে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার গত এক বছরে যে বাস্তবসম্মত তথ্য দিয়েছে তাকে ওয়ার্কিং গ্রুপ স্বাগত জানায়। এসব তথ্য থেকে অনিষ্পন্ন আটটি অভিযোগের ব্যাখ্যা মিলতে পারে।

ওয়ার্কিং গ্রুপ একই সঙ্গে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরের পর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বাড়তি তথ্য দিতে বাংলাদেশকে তার প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছে। এ অভিযোগগুলোর মধ্যে অনিষ্পন্ন সব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভূমিকার ব্যাপারে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত উল্লেখযোগ্য।

ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজন, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সংগঠনগুলো যাতে কোনো ধরনের হুমকি, হয়রানি বা প্রতিহিংসার শিকার না হয় তা অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের নিবন্ধন নবায়ন না করার সিদ্ধান্তে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ বিশেষ উদ্বেগ জানিয়েছে।

ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ প্রসঙ্গে গুম থেকে সুরক্ষাবিষয়ক ঘোষণার ত্রয়োদশ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছে। ওই অনুচ্ছেদে অভিযোগ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সবাইকে দুর্ব্যবহার, হুমকি, হয়রানি বা প্রতিহিংসার শিকার হওয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা আছে।

গুমবিষয়ক জাতিসংঘ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে বেশ কয়েক দফা যোগাযোগের মাধ্যমে কমিটি বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছিল। এবারের প্রতিবেদনে সেই আগ্রহের কথা আবারও তুলে ধরেছে কমিটি।

জাতিসংঘ কমিটির তালিকায় বাংলাদেশের ৮১টি গুমের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ২২ মে এই সংখ্যা ছিল ৭৬। অর্থাৎ আরো পাঁচটি গুমের অভিযোগ ওয়ার্কিং গ্রুপের তালিকায় যোগ হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নাদা আল-নাশিফ গত সোমবার ৫১তম অধিবেশনের শুরুতে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার সময় বাংলাদেশ প্রসঙ্গেও কথা বলেন।

নাদা আল-নাশিফ বলেন, সাবেক হাইকমিশনার আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে র‌্যাবের গুমসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ও বিশেষায়িত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করেছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ গঠিত কমিটি ও স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়াররা গত ফেব্রুয়ারিতে সরকারকে গুমের অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানাতে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। এরপর মে মাসে জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের মাধ্যমে পাঠানো ফিরতি চিঠিতে সরকার অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সরকার বলেছে, জাতিসংঘ কমিটির গুমের অভিযোগের অনেক ক্ষেত্রেই কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সরকার বলেছে, কেউ নিখোঁজ হওয়ার অর্থ গুম হওয়া নয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রক্রিয়ার উচিত, গুমের অভিযোগ পেলে আগে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা। বিশেষ করে গুমের অভিযোগের বিষয়ে কোনো মামলা বা আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি

১৯৮০ সাল থেকে গুমবিষয়ক জাতিসংঘ কমিটি বিশ্বের ১১২টি রাষ্ট্রের কাছে ৫৯ হাজার ৬০০টি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। ৯৭টি রাষ্ট্রের ৪৬ হাজার ৭৫১টি অভিযোগ এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। গত এক বছরে ১০৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

গুমবিষয়ক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মে পর্যন্ত গুমের অভিযোগে শীর্ষে ছিল ইরাক। ওই দেশে ১৬ হাজার ৪২৭টি গুমের অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়নি। শ্রীলঙ্কার ছয় হাজার ৩৬৪টি, আলজেরিয়ার তিন হাজার ২৮৬টি, আর্জেন্টিনার তিন হাজার ৬৫টি, গুয়াতেমালার দুই হাজার ৮৯৭টি, পেরুর দুই হাজার ৩৬১টি, এল সালভাদরের দুই হাজার ২৮৪টি গুমের অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়নি। ভারতের ৪৪২টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের চারটি গুমের অভিযোগও নিষ্পত্তি করা হয়নি।

সূত্র: কালের কন্ঠ অনলাইন

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com