দলীয় ট্যাগ দিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ। কেউ বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদারিত্বের সাংবাদিকতা করলে সেটি গ্রহণ করা কিংবা শ্রদ্ধা করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন নাদিম মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘বিডিনিউজে যখন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা করতাম তখন অফিস থেকে এক বড় ভাই বলেছিলেন, সাংবাদিকতার সঙ্গে অ্যাক্টিভিজম কখনো মিলিয়ে ফেলবে না।
যখন সংবাদ লিখবে, সেখানে যেন কেবল সংবাদ উপাদানই থাকে। ওই কথাটি আমার সব সময় বাজে। এরপর থেকে আমি চেষ্টা করেছি, আমার লেখার সঙ্গে যেন অ্যাক্টিভিজম না মিশে যায়।’দলীয় ট্যাগ দিয়ে সাংবাদিকদের বিভাজন করা হচ্ছে দাবি করে নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘আজকাল নিজেই অ্যাক্টিভিস্ট সাংবাদিক বনে যাওয়ার পর সে খুঁজছে নিরপেক্ষ সাংবাদিককে।
দলীয় সাংবাদিক হিসেবে ট্যাগ দিয়ে বিভাজনের রেখা স্পষ্ট করে তুলছে। নিজেই সারাদিন সাংবাদিকের চেয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীর মতো আচরণ করে, সে আবার অন্য সহকর্মীকে বলছে ওমুক দলের সমর্থন করা যাবে না। নিজেরাই মিডিয়া হাউজ দখল করে, এখন আদর্শিক সাংবাদিকতার বুলি ছুটান।’এই যখন অবস্থা, তখন সাংবাদিকতাকে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির খপ্পর থেকে বাঁচানোর অঙ্গিকার বড়ই বেমানান।
যে কাজ আপনি করেন না, সেই কাজ অন্যেদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন কি করে? প্রশ্ন রাখেন নাদিম।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা মানুষ। তাদের পছন্দের শিল্পী থাকবে, লেখক থাকবে, খেলোয়াড় থাকবে এমনকি পছন্দের রাজনৈতিক দলও থাকবে। প্রশ্নটি তখনই তৈরি হবে, যখন সেই সাংবাদিক দলীয় আদর্শ বিষয়গুলো সংবাদে প্রতিফলন করছে। সমস্যা প্রগাঢ় হবে তখন, যখন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সেই সাংবাদিক রাজনৈতিক মিছিলের স্লোগান দিচ্ছে।
এর বাহিরে কেউ যদি কোনো দলের সমর্থক হওয়ার পরও বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদারিত্বের সাংবাদিকতা করে, তাহলে সেটাকে গ্রহণ করা কিংবা শ্রদ্ধা করা জরুরি। পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে আপনাকে নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবেই।’