ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » পিলখানায় বিদ্রোহের পেছনে বিএনপি-জামায়াত জড়িত- ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর
পিলখানায় বিদ্রোহের পেছনে বিএনপি-জামায়াত জড়িত- ইঙ্গিত  প্রধানমন্ত্রীর
--সংগৃহীত ছবি

পিলখানায় বিদ্রোহের পেছনে বিএনপি-জামায়াত জড়িত- ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্কঃ

রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরের সদর দপ্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহের পেছনে বিএনপি-জামায়াত এবং ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টিকারীরা জড়িত বলে ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ কেন ঘটেছে, তাও তদন্ত করে বের করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল রবিবার একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের প্রথম দিনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে ক্ষমতা গ্রহণের ৫২ দিনের মাথায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় রক্তাক্ত বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। পিলখানার ঘটনা মোকাবেলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সদ্যঃপ্রয়াত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের সাহসী ভূমিকার কথা শোক প্রস্তাবের ওপর দেওয়া বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওই ঘটনা ঘটার সাথে সাথে আমাদের চেষ্টা ছিল কোনোমতে এটাকে থামানো এবং আমাদের যাঁরা অফিসার আছেন, তাঁদের রক্ষা করা, তাঁদের পরিবারগুলো রক্ষা করা।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে কারা ছিল? আমরা তো কেবল সরকার গঠন করেছি। এটা কোনো দিনই যুক্তিযুক্ত না যে আমরা সরকার গঠন করেই এমন একটা ঘটনা ঘটাব, যাতে দেশে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক। কাজেই যারা তখন ক্ষমতায় আসতে পারেনি, তারাই তাদের পেছনে ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবং তাদের সঙ্গে ওয়ান-ইলেভেন যারা সৃষ্টি করেছিল, যাদের ধারণা ছিল নির্বাচনে একটা ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে, কিন্তু যখন দেখল আওয়ামী লীগ মেজরিটি নিয়ে চলে এলো, তখন সব কিছুকে নস্যাৎ করার পরিকল্পনা যাদের ভেতরে ছিল তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। একদিন না একদিন এই সত্যটা বের হবে।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর বিএনপি-জামায়াতের ‘মিথ্যাচারের’ কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঠিক একইভাবে বিডিআরের ঘটনাটা যখন ঘটল, তখন তারা ওইভাবেই অপপ্রচার শুরু করল।’

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিডিআরের ঘটনার সময় সাহারা খাতুনের সাহসী ভূমিকা দেখেছি। সাহারা আপা ঝুঁকি নিয়ে সেখানে গেছেন। রাতে সেখানে গিয়ে বিডিআর সদস্যদের আর্মড সারেন্ডার করিয়েছেন। অনেক আর্মি অফিসার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেছেন। এ জন্য তাঁর জীবনের ওপরও হুমকি এসেছিল। তাঁর ওপর ওরা হামলা করতে গিয়েছিল। এ রকম অবস্থায় সাহারা খাতুন দুঃসাহসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। কোনো সাধারণ মানুষ এই সাহস করতে পারত না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি সততার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে তিনি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ কঠিন দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।’

ওয়ান-ইলেভেনের প্রসঙ্গে সংসদ নেতা বলেন, ‘২০০৭ সালে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একের পর এক মামলা দেওয়া হয়। বিএনপি আমার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর আরো পাঁচ-ছয়টি মামলা দেওয়া হয়। তাদের প্রচেষ্টা ছিল মামলাগুলো দ্রুত চালিয়ে আমাকে শাস্তি দেবে। এই মামলার সময় সাহারা আপা সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতেন। মামলা পরিচালনা করতে আমাদের আইনজীবীরা এলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করত, গ্রেপ্তার করত। তাদের ছাড়িয়ে আনতে ছুটে যেতেন সাহারা আপা।’

আওয়ামী লীগদলীয় সদ্যঃপ্রয়াত আরেক সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত অল্প সময়ে সে চলে যাবে বুঝতে পারি নাই। তার করোনা হওয়ার পর ভালো হয়েছিল। তার কিডনির সমস্যা ছিল। কিন্তু সে কিছু মানেনি। যখন একটু সুস্থ হলো চলে গেল এলাকায়। এভাবে করোনার সময় আমরা আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মীকে হারিয়েছি। করোনার সময়ে তারা ঘরে ঘরে মানুষের কাছে রিলিফ পৌঁছে দিয়েছে। বন্যার সময় রিলিফ পৌঁছাতে গেছে। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে, মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়েই কিন্তু তারা জীবন দিয়েছে।’

মসজিদে বিস্ফোরণের প্রকৃত ঘটনা অবশ্যই বের হবে : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে যে ঘটনাটি ঘটেছে, মসজিদে যে বিস্ফোরণটা ঘটল, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা সেখানে গেছেন, নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এই ঘটনাটা কেন ঘটল, কিভাবে ঘটল, সেটার ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। আমি মনে করি এটি বের হবে। ওই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে, নকশা না মেনে যেখানে-সেখানে ইমারত গড়লে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকার পরও মসজিদে মসজিদে অপরিকল্পিতভাবে এয়ারকন্ডিশনার বসানো হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে।’

আমৃত্যু বাংলাদেশের পাশে ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায় : মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সদ্যঃপ্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রণব মুখোপাধ্যায় বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। সেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন আমাদের পাশে ছিলেন, ১৯৭৫-এ আমাদের পাশে ছিলেন এবং এর পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে আমি বন্দি থাকাকালেও তিনি আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতু নিয়ে আমার ওপর দোষারোপ চাপাল তখনো তিনি সেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করেছেন। সব সময় তিনি বাংলাদেশের কল্যাণে চিন্তা করতেন। তাঁর মৃত্যু উপমহাদেশের রাজনীতিতে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করবে।’

একে একে সবাই চলে যাচ্ছেন : সদ্যঃপ্রয়াত সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্ত ও ওসমান চৌধুরীসহ প্রয়াতদের কথা স্মরণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একে একে সবাই চলে যাচ্ছেন। মৃত্যু অবধারিত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু মৃত্যু যে ক্ষতচিহ্নটা রেখে যায় সেটাই খুব কষ্টকর। সত্যিই এটা দুঃখজনক যে আমাদের একের পর এক অনেক সংসদ সদস্যকে হারাচ্ছি। আর প্রতিবারই শোক প্রস্তাব গ্রহণ করতে হয়েছে। করোনাভাইরাসের পর এটি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।’

যাঁদের জন্য শোক প্রস্তাব : গতকাল সংসদে সদ্যঃপ্রয়াত ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। এ ছাড়া সংসদের পক্ষ থেকে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) চিত্ত রঞ্জন দত্ত, সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, প্রতিরক্ষাসচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, আইন ও বিচার বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক দুলাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব নরেন দাস, ভাষাসংগ্রামী ও চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর, ভাষাসংগ্রামী ও সাংবাদিক কামাল লোহানী, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, বিরোধী দলের উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আওয়ামী লীগের শাজাহান খান, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, জুনাইদ আহেমদ পলক, সাবেক হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, শামসুল আলম দুদু, বিরোধী দলের চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা ও বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ। আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। এরপর প্রয়াতদের বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে মোনাজাত করা হয়।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*