মেহেরুবান হাবিব
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের জোড়াপুল ও জুম্মারপাড় এলাকায় সানিয়াজান নদীর ওপর প্রায় চার দশক ধরে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। ফলে এলাকার প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বর্তমানে জোড়াপুল এলাকায় বাঁশের তৈরি একটি নড়বড়ে সাঁকোই সানিয়াজান নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। প্রায় ১৫ ফুট উঁচু এ সাঁকোটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি করছে। বর্ষা ও শুষ্ক-দুই মৌসুমেই নদীর দক্ষিণ অংশের বাসিন্দাদের এই অস্থায়ী সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয়।
দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, রোগী, নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই নদীতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। সময়মতো রোগীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে না পারায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট এবং বর্ষা মৌসুমে ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো স্থানীয় উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় পার হলে সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে এবং চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার আবেদন করা হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কয়েক দফা মাটি পরীক্ষা ও পরিমাপ করলেও বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আহমেদ হায়দার জামান বলেন, ওই স্থানে ১০৪ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে টেন্ডারিং ও এপিপি পর্যায়ে আছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে ঠিকাদার নিয়োগ হলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
