ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » স্বাধীনতার ৫০ বছরের ২৯ বছরই কোনো উন্নয়ন হয়নি : প্রধানমন্ত্রী
স্বাধীনতার ৫০ বছরের ২৯ বছরই কোনো উন্নয়ন হয়নি : প্রধানমন্ত্রী
--ফাইল ছবি

স্বাধীনতার ৫০ বছরের ২৯ বছরই কোনো উন্নয়ন হয়নি : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন-অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। কাজেই এদেশ নিয়ে কিংবা এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ কোনো খেলা খেলতে পারবে না। বাংলাদেশ যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ইনশাল্লাহ সেভাবেই এগিয়ে যাবে।

গতকাল শনিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র আওয়ামী লীগ ২০০১ সালে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনো সরকার তা করেনি, বরং প্রাণহানি ঘটিয়েছে। ৭৫ সাল থেকে একের পর এক রক্তপাত হয়েছে, খুন হয়েছে, প্রতিবারই কোনো না কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর আমরা সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলাম।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছাড়া বাকিটা সময় দেশ পিছিয়ে ছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে উন্নয়নের যাত্রা যদি আপনারা হিসাব করেন ৫০ বছরের মধ্যে কিন্তু ২৯ বছর উন্নয়ন হয় নাই। পিছু টানা বা পিছনে যাওয়ার সময়।

তিনি বলেন, আমরা যে উন্নয়নের যাত্রা শুরু করে গিয়েছিলাম তা দুর্ভাগ্যবশত ২০০১ সালে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা থামিয়ে দিয়েছিল। আবারও আমরা একটা অন্ধকার যুগে প্রবেশ করি। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুর্নীতিতে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সন্ত্রাস, বাংলা ভাই! বাংলাদেশের মানুষের ওপর একটা জুলুম-অত্যাচার এসেছিল। যার ফলে আমরা ২০০৮ সালে আবার ক্ষমতায় আসি। নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসি।

দেশের একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ আমরা দারিদ্র্যের হার কমাতে সক্ষম হয়েছি, একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। জাতির পিতা যে লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন আমরা তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশের কোনো মানুষই ভূমিহীন, গৃহহীন থাকবে না।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আগামী দিনের পথ দেখেছিলেন তার ঐতিহাসিক ভাষণের সাহায্যে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, রেসকোর্স ময়দানে ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ শুরু করে। রাজারবাগ পুলিশ ফাঁড়ি, পিলখানাসহ একই সঙ্গে সেই ধানমন্ডির বাড়ি। জাতির পিতা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছিলেন। এখনকার পিলখানা হেডকোয়ার্টার পিপিআর এই ফাঁড়ি থেকে তিনি এ ঘোষণা প্রচার করেছিলেন। সেই স্বাধীনতার ঘোষণা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনের মাধ্যমে সংগ্রাম পরিষদের হাতে ওই ভোররাতের দিকে বার্তা পৌঁছে দেয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার শুরু করে সেদিন থেকে। ২৬শে মার্চ থেকে এ ঘোষণার সাথে সাথেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তারা নিয়ে যায় পাকিস্তানে এবং বন্দি করে রাখে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন করে দিয়েছিলেন। তারপর আওয়ামী লীগ সরকার আসায় আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। আমাদের দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। সব থেকে বড় কথা আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আজকে শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে আমরা সক্ষমতা অর্জন করেছি। সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর আজকে আমরা আলোকিত করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের এগিয়ে যাওয়া, এই গতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা ২০৪১ সালের বাংলাদেশ কেমন বাংলাদেশ হবে, তার প্রেক্ষিত পরিকল্পনা আমরা প্রণয়ন করে দিয়ে গেছি এবং তা বাস্তবায়নের জন্য পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ১০০ বছর অর্থাৎ ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যান তৈরি করে দিয়েছি। তারও কিছু কাজ আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রি আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া এবং অনুষ্ঠানের আয়োজক মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্য সচিব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের ওপর একটি অডিও ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন পরিবেশিত হয়। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে এরপরই থিম সং পরিবেশিত হয়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের পদস্থ বেসামরিক এবং সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

 

সূত্র: কালের কন্ঠ অনলাইন

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com