Monday , 27 July 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে :  ড. ইফতেখারুজ্জামান
--ড. ইফতেখারুজ্জামান।

অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে : ড. ইফতেখারুজ্জামান

অনলাইন ডেস্ক:

নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অনেক সিদ্ধান্তের তথ্য রাষ্ট্রীয় নথিপত্র ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তথ্য অধিকার আইন এখনো পুরনো কায়দায় চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ভুল বা সঠিক হোক সব তথ্য জানার অধিকার রাষ্ট্রের নাগরিকদের রয়েছে। তথ্য সরিয়ে ফেলা সেটি আইন পরিপন্থী। এটি তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মাইডাস সেন্টারে ‘অনতিবিলম্বে তথ্য কমিশন গঠন এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সিদ্ধান্ত হয়েছে অন্ধকারে। দেড় বছরে তথ্য কমিশনকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল।

তিনি আরো বলেন, সরকার পরিবর্তন হয়, রাষ্ট্র তার জায়গায় থাকে। কেউ জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কাজে স্বচ্ছতার অভাব পাওয়া গেলে অবশ্যই তা নিয়েও টিআইবি কথা বলবে।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির ইশতেহারে অন্তত ৬টি ধারায় তথ্যের অধিকারের কথা উল্লেখ করা আছে। তাই নতুন সরকারের কাছে এই ইশতেহার সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, তথ্য কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখতে হবে—কাদের সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা আছে। বিগত বছরগুলোতে দেখেছি যাদের এ বিষয়ে ধারণা নেই তাদের তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ যারা স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে পারবে, তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া দরকার। তথ্যকে গোপন রেখেছেন যে ব্যক্তি সারাজীবন তাকেই কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার উদাহরণ পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তথ্য অধিকার আইন দিয়ে যেকোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব, যা সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। তথ্যের অধিকার মানে সত্য জানার অধিকার। নাগরিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই। গত ১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত ছিল। তথ্য অধিকার আইনে রাজনৈতিক দলকে যেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেন আমরা তাদের হিসাব-নিকাশের বিষয়ে জানতে পারি।

বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, তথ্য প্রবাহ ঠিক থাকলে বাংলাদেশ থেকে এত টাকা লুট হতো না। সংশ্লিষ্ট সবাই অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হতে পারত। তথ্য কমিশনের ক্ষেত্রে সরকারের জবাবদিহি দরকার যে কাকে ওই আসনে বসাবে সেটি যেন দলীয় না হয়। আর সরকার পরিবর্তন হলে সব পরিবর্তন করতে হবে এই সংস্কৃতিও পরিবর্তন দরকার।

নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, তথ্য কমিশনে সবসময়ই আমলাদের প্রভাব ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তথ্য কমিশন আলাদা কিছু হয়নি, বরং অকার্যকর ছিল। সরকারের পছন্দের ব্যক্তিদের দ্বারা কমিশন পরিচালনা হয়েছে। নাগরিক প্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা তথ্য কমিশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। দ্রুত তথ্য কমিশন গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply