নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অনেক সিদ্ধান্তের তথ্য রাষ্ট্রীয় নথিপত্র ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তথ্য অধিকার আইন এখনো পুরনো কায়দায় চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ভুল বা সঠিক হোক সব তথ্য জানার অধিকার রাষ্ট্রের নাগরিকদের রয়েছে। তথ্য সরিয়ে ফেলা সেটি আইন পরিপন্থী। এটি তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ সময় তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সিদ্ধান্ত হয়েছে অন্ধকারে। দেড় বছরে তথ্য কমিশনকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল।
বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, তথ্য প্রবাহ ঠিক থাকলে বাংলাদেশ থেকে এত টাকা লুট হতো না। সংশ্লিষ্ট সবাই অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হতে পারত। তথ্য কমিশনের ক্ষেত্রে সরকারের জবাবদিহি দরকার যে কাকে ওই আসনে বসাবে সেটি যেন দলীয় না হয়। আর সরকার পরিবর্তন হলে সব পরিবর্তন করতে হবে এই সংস্কৃতিও পরিবর্তন দরকার।
নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, তথ্য কমিশনে সবসময়ই আমলাদের প্রভাব ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তথ্য কমিশন আলাদা কিছু হয়নি, বরং অকার্যকর ছিল। সরকারের পছন্দের ব্যক্তিদের দ্বারা কমিশন পরিচালনা হয়েছে। নাগরিক প্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা তথ্য কমিশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। দ্রুত তথ্য কমিশন গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
