কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, ‘দেশের বর্তমান সরকারের একটি নির্গমনের পথ ঠিক করা দরকার। কবে, কিভাবে ও কার হাতে তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, সে বিষয়ে জাতিকে পরিষ্কার করে বলা উচিত। কারণ, এই সরকার মূলত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে কাজ করছে। অতএব, এ সময় তাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত ও কাজগুলো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারকে বৈধতা দিতে হবে।
সম্প্রতি একটি টকশো প্রোগ্রামে এসব নিয়ে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি—এই সরকারকে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। ক্ষমতার বৈধতা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দেবে। আর সেই নির্বাচন হওয়া উচিত একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।
’প্রিন্স জানান, বর্তমান সরকার গঠনের সময় বাম দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়নি। যদিও আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এ সরকার গঠিত হয়েছে, তবুও প্রথম দিন থেকেই তারা সরকারকে বলে আসছেন সব রাজনৈতিক শক্তিকে আস্থায় নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘উনারা তখনই ডাকেন যখন মনে হয় দেশে একটা সংকট হচ্ছে। প্রকৃত অর্থে কোনো ‘হার্ট-টু-হার্ট’ আলোচনার সুযোগ হয়নি।’তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু এই সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনের ফল, তাই এই অন্তর্বর্তী সময়টাতে তাদের আস্থায় নিয়েই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তা না হলে ভবিষ্যতে এই সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।’ আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘সরকার যেন কোনো আন্তর্জাতিক চাপ বা গোপন চুক্তির মাধ্যমে এমন কিছু না করে যার বৈধতা ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকার দিতে পারবে না। যেমন, জাতিসংঘের অফিস খোলা, রাখাইন করিডর দেওয়া বা বাণিজ্যিক চুক্তি—এসব বিষয়ে সরকারের সীমা জানা উচিত।’প্রিন্স বলেন, ‘নির্বাচন বিলম্ব না করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত তা আয়োজন করতে হবে।
এবং সে জন্য একটি রোডম্যাপ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া হোক।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার ধারণা, এই সরকারকে শেষ পর্যন্ত আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, যারা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব।’