২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে টানা ছয় দিন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এই ছয় দিন তিনি ছিলেন নীরব ও সংযত, প্রয়োজন ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলেননি বলে কারা সূত্র জানিয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে লালবাগ থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, কারাগারে নেওয়ার পরপরই চিকিৎসকরা সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তিনি সুস্থ ছিলেন এবং সুস্থ অবস্থাতেই জামিনে মুক্তি পান।
তিনি আরো জানান, আগের শারীরিক সমস্যার জন্য যে ওষুধগুলো তিনি নিয়মিত সেবন করতেন, সেগুলো সংগ্রহ করে তাকে সরবরাহ করা হয়েছিল।
৭ এপ্রিল গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে শিরীন শারমিন চৌধুরী ধানমন্ডির ৮/এ সড়কে তার চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর বাসায় যান। দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকলেও হঠাৎ ফোন করে সেখানে যাওয়ার কথা জানান এবং পছন্দের খাবার রাখতে বলেন।
মাসুদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিরীন শারমিন চৌধুরী ও তার স্বামী ছোট একটি লাগেজ নিয়ে তাদের বাসায় আসেন। রাতে একসঙ্গে খাবার খাওয়া ও আলাপচারিতার পর গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার বাসায় আসেন। ইন্টারকমে যোগাযোগ করে তারা তল্লাশির কথা জানান। বিষয়টি গোপন না রেখে মাসুদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেন এবং শিরীন শারমিনকেও বিষয়টি জানান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের পদ থেকে ইস্তফা দেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
