সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জে বুধবার রাত থেকে কারফিউ শুরু হয়েছে। শুক্রবারও কারফিউ চলেছে। গোপালগঞ্জে এই মুহূর্তে কারফিউ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাটা কি? ওখানে কি আবারো এরকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে? তাহলে কেন কারফিউ? একটা কারণ হতে পারে যে, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছিল বলে প্রশাসন অথবা আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মনে করছেন তাদেরকে ধরার জন্য কারফিউ। তারা যাতে কোথাও পালিয়ে যেতে না পারে এজন্য সেখানে কারফিউ দেওয়া হয়েছে।
‘যে ঘটনা ঘটলো সেটাই কি শেষ? নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন যে, উনি আবার গোপালগঞ্জ যাবেন এবং কেবল তাই না বলেছেন গোপালগঞ্জের প্রতিটি ঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পতাকা উড়বে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটা বড় কাজ ছিল। কিন্তু আপনারা যে আচরণ করছেন সেটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নয়। আপনারা যেভাবে ঘরে ঘরে হিংসা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, মানুষের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করছেন, সেটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নয়। কাজেই এই বড় বড় কথাগুলো বলে কোনো লাভ নেই। মাঝখান থেকে এই জাতির, এই রাষ্ট্রের আরো কয়েক কোটি টাকা খরচ হবে।’
‘কত টাকা খরচ হয়েছিল? এই নাহিদ ইসলামদের মার্চ টু গোপালগঞ্জের এই অনুষ্ঠানে, এই ব্যর্থ প্রজেক্টের জন্য কত টাকা খরচ হয়েছে কেউ হিসাব দেবে? আমি একটা হিসাব করার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে। বাংলাদেশে যখন নাকি রাষ্ট্রপতি ঢাকার বাইরে কোথাও যান তখন প্রতি ঘণ্টায় ৭২ লক্ষ টাকা খরচ হয় এবং প্রধানমন্ত্রী গেলে প্রতি ঘণ্টায় ৮১ লক্ষ টাকা খরচ হয়। আর এরা যে অনুষ্ঠানটা করেছে সেখানে ওই রকমই কিন্তু নিরাপত্তা ছিল। বরং আপনার এই যে এপিসি যেটা আমরা সাঁজোয়া যান বলেছি, এই এপিসি অনেক সময় প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যায় না। ওদের সঙ্গে গিয়েছিল, তাহলে কত খরচ হয়েছে? আমাকে একজন হিসাব দিলেন, এটা প্রায় ৮ কোটি টাকার মতো খরচ হয়েছে।’
‘অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের এ ধরনের একটা আবদার পূরণের জন্য রাষ্ট্রের এতগুলো টাকা খরচ হলো। উনারা আবার যাবেন, আবার এসে জেদ করবেন, এবার হয়তো আরো লাট বহর নিয়ে যাবেন। আরো বেশি সাঁজোয়া যান নিয়ে যাবেন, হয়তো সাঁজোয়া যানের মধ্যে বসে বসে বক্তৃতা করবেন, আরো খরচ হবে। এবার প্রতিটা ঘরের সামনে যদি পুলিশ রাখেন, আর্মি রাখেন, হয়তো তারা সেই পতাকা উড়াতে পারবেন। কিন্তু এতে লাভটা কি হবে?
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
