Thursday , 25 June 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
গোপালগঞ্জে কারফিউ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কী : মাসুদ কামাল
--সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল

গোপালগঞ্জে কারফিউ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কী : মাসুদ কামাল

অনলাইন ডেস্কঃ

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জে বুধবার রাত থেকে কারফিউ শুরু হয়েছে। শুক্রবারও কারফিউ চলেছে। গোপালগঞ্জে এই মুহূর্তে কারফিউ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাটা কি? ওখানে কি আবারো এরকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে? তাহলে কেন কারফিউ? একটা কারণ হতে পারে যে, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছিল বলে প্রশাসন অথবা আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মনে করছেন তাদেরকে ধরার জন্য কারফিউ। তারা যাতে কোথাও পালিয়ে যেতে না পারে এজন্য সেখানে কারফিউ দেওয়া হয়েছে।

‘সেটা যদি হয়, তাহলে এর মধ্যে কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় পড়েছি যে, আওয়ামী লীগ অথবা ছাত্রলীগের সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, যারা বড় বড় নেতা ছিলেন, তারা কেউ এলাকায় নেই। স্থানীয়দের আশঙ্কা যে, এই কারফিউ-এর মধ্যে গ্রেপ্তারের নামে আসলে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হবে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।

তবে এ আশঙ্কা বাস্তবে না হোক এটি আমরা চাই। কিন্তু আমরা কি চাই বা না চাই, তার ওপর ভিত্তি করে কি ঘটনা ঘটে? আমরা কি চেয়েছিলাম যে গোপালগঞ্জে এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটুক। ’‘একটা কথা ভাবুন। ওখানে একটা পদযাত্রা হয়েছে।
তারা যদিও এটাকে নাম চেঞ্জ করে সারা দেশের সব জেলার জন্য তারা করেছে পদযাত্রা। আর গোপালগঞ্জের জন্য করেছে মার্চ টু গোপালগঞ্জ। গোপালগঞ্জের অভিমুখে তারা যাবে বিশাল কিছু করবে এবং সেটা নিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এমন প্রচারণাও করেছেন যে ওখানে যে বঙ্গবন্ধুর যে সমাধি আছে, সেটাকে ভেঙে ফেলা হবে, গুড়িয়ে ফেলা হবে। এখন সেটা যদি ওখানকার মানুষের ইমোশনে একটা প্রভাব বিস্তার করে, যদি তার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই সেটাকে আপনি কী বলবেন। সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা পাঁচজনের মৃত্যু।
কাদেরকে মারলেন আপনারা?’‘তাদের ফ্যামিলির বক্তব্য নিয়ে আজকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা দেখলাম। যারা মারা গিয়েছেন তারা কোনো রাজনীতি করতেন না। কেউ রিকশা চালাতেন, কেউ দোকানদারি করতেন। এরকম সাধারণ মানুষ ছিল তারা। তো তাদের মৃত্যুর জন্য কারো মধ্যে কোনো দুঃখবোধ নাই।’

‘যে ঘটনা ঘটলো সেটাই কি শেষ? নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন যে, উনি আবার গোপালগঞ্জ যাবেন এবং কেবল তাই না বলেছেন গোপালগঞ্জের প্রতিটি ঘরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পতাকা উড়বে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটা বড় কাজ ছিল। কিন্তু আপনারা যে আচরণ করছেন সেটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নয়। আপনারা যেভাবে ঘরে ঘরে হিংসা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, মানুষের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করছেন, সেটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নয়। কাজেই এই বড় বড় কথাগুলো বলে কোনো লাভ নেই। মাঝখান থেকে এই জাতির, এই রাষ্ট্রের আরো কয়েক কোটি টাকা খরচ হবে।’

‘কত টাকা খরচ হয়েছিল? এই নাহিদ ইসলামদের মার্চ টু গোপালগঞ্জের এই অনুষ্ঠানে, এই ব্যর্থ প্রজেক্টের জন্য কত টাকা খরচ হয়েছে কেউ হিসাব দেবে? আমি একটা হিসাব করার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে। বাংলাদেশে যখন নাকি রাষ্ট্রপতি ঢাকার বাইরে কোথাও যান তখন প্রতি ঘণ্টায় ৭২ লক্ষ টাকা খরচ হয় এবং প্রধানমন্ত্রী গেলে প্রতি ঘণ্টায় ৮১ লক্ষ টাকা খরচ হয়। আর এরা যে অনুষ্ঠানটা করেছে সেখানে ওই রকমই কিন্তু নিরাপত্তা ছিল। বরং আপনার এই যে এপিসি যেটা আমরা সাঁজোয়া যান বলেছি, এই এপিসি অনেক সময় প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যায় না। ওদের সঙ্গে গিয়েছিল, তাহলে কত খরচ হয়েছে? আমাকে একজন হিসাব দিলেন, এটা প্রায় ৮ কোটি টাকার মতো খরচ হয়েছে।’

‘অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের এ ধরনের একটা আবদার পূরণের জন্য রাষ্ট্রের এতগুলো টাকা খরচ হলো। উনারা আবার যাবেন, আবার এসে জেদ করবেন, এবার হয়তো আরো লাট বহর নিয়ে যাবেন। আরো বেশি সাঁজোয়া যান নিয়ে যাবেন, হয়তো সাঁজোয়া যানের মধ্যে বসে বসে বক্তৃতা করবেন, আরো খরচ হবে। এবার প্রতিটা ঘরের সামনে যদি পুলিশ রাখেন, আর্মি রাখেন, হয়তো তারা সেই পতাকা উড়াতে পারবেন। কিন্তু এতে লাভটা কি হবে?

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply