শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার ফায়দা লুটেছে বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ। তার ভাষ্য, শিক্ষকদের প্রকাশ্যে অপমান-অপদস্ত আর পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে ক্ষয়রত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইউনূস সরকার নোংরামির চরম সীমায় নিয়ে গিয়েছিল। আজ মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমনটা দাবি করেন নাদিম মাহমুদ।
নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশই ছিলেন এই দেশের সুশীল সমাজের লোকজন।
তার লেখায় তিনি অনুসন্ধান প্রতিবেদন ‘ইউনূস আমলে ৩ মাসে ৩ হাজার শিক্ষক মবের শিকার, শিক্ষাগুরুর বিভীষিকাকাল’-এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষাগুরুর বিভীষিকাকাল দেরিতে হলেও ইউনূসের অন্ধকার শাসন ব্যবস্থায় দেশের শিক্ষক সমাজদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা নিয়ে আজ বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এটি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন। কারণ ইউনূসশাহীর সময়ে শিক্ষাগুরুদের বিভীষিকাকাল এখনো অনেক শিক্ষকের মনে দাগ কেটে গেছে। এই প্রতিবেদনটি পড়তে গিয়ে চোখের কোণায় জল জমছে। প্রতিটি কেস স্টাডি চোখের সামনে ভাসছে। যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষকরা পড়িয়েছেন, তারাই পিটিয়েছে, শাড়ি টেনেছে, জোর করে কাগজে সই করে নিয়ে পদত্যাগ করিয়েছে। এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল অধ্যাপক ইউনূসরা।যদিও প্রতিবেদনটি কেবলই স্কুল-কলেজ ভিত্তিক, কাছাকাছি ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঘটেছে। চট্টগ্রামের বরণ্যে শিক্ষাবিদ অনুপম সেনকে অপমান করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে সরানোর ঘটনা থেকে শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় ডিনকে পদত্যাগ করানোর ঘটনা ঘৃণাদায়ক। এ ছাড়াও ইউনূসরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি করেছে কেবল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে।
‘এমন মবতন্ত্রের জন্ম দেওয়া সরকারের কাঁধে কয়েক হাজার শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে আমরাই শীর্ষে থাকব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার মাধ্যমে তারা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে ফেলে গিয়েছে। যে মানুষগুলো সারাজীবন শিক্ষা নিয়ে কাজ করল, সেই মানুষগুলো ক্ষমতা পেয়ে ‘শিক্ষার’ ন্যূনতম পরিবর্তনের আগ্রহ দেখায়নি। বরং তারা সংস্কারের গান গেয়ে, নিজেদের মনের কুসংস্কার তাড়াতে পারেননি। দেশে আইনের শাসন পূর্ণরুপে ফিরে এলে, ইউনূস জামানার এই অপরাধগুলোর বিচার হবে। আমাদের মনে রাখা উচিত, শিক্ষকদের সম্মানের নিরাপত্তার বলয় রাষ্ট্র তৈরি করতে না পারলে, সেই রাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম কখনোই শিক্ষার আলোয় পূর্ণতা পায় না।’
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
