Thursday , 25 June 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে ফায়দা লুটেছে ইউনূসরা : নাদিম মাহমুদ
--নাদিম মাহমুদ।

ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে ফায়দা লুটেছে ইউনূসরা : নাদিম মাহমুদ

অনলাইন ডেস্ক:

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার ফায়দা লুটেছে বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ। তার ভাষ্য, শিক্ষকদের প্রকাশ্যে অপমান-অপদস্ত আর পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে ক্ষয়রত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ইউনূস সরকার নোংরামির চরম সীমায় নিয়ে গিয়েছিল। আজ মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমনটা দাবি করেন নাদিম মাহমুদ।

নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশই ছিলেন এই দেশের সুশীল সমাজের লোকজন।

অধ্যাপক ইউনূসসহ এদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিলেন শিক্ষক। এই শিক্ষকদের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের শিক্ষা। ক্ষয়রত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ওরা নোংরামির চরম সীমায় নিয়ে গিয়েছিল, শিক্ষকদের প্রকাশ্যে অপমান, অপদস্ত আর পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে।’তিনি বলেন, ‘যে শিক্ষার্থীরা অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল, সেই শিক্ষার্থীরা তাদেরই ক্লাসে যিনি পড়িয়েছেন তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছে দিনের পর দিন।

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকরা এতটাই ভীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল, যা থেকে এখন পর্যন্ত বের হতে পারেননি।’সারা দেশে শিক্ষকদের অপমান-অপদস্তের ব্যাপারে সরকারপ্রধান থাকাকালীন কোনো পদক্ষেপ নেননি জানিয়ে নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস অন্তত ১২ বারের বেশি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। এসব ভাষণে তিনি বারবার ঐক্যের বুলি ছড়িয়েছেন কিন্তু একটিবারের জন্য শিক্ষকদের নির্যাতন-অপমানের বিরুদ্ধে শব্দ ব্যয় করেননি। সারা দেশে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার পরও তিনি শিক্ষার্থীদের এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরতা দেখাননি।

বরং নীরব থেকেছেন তারা।’ফেসবুক পোস্টে তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি এমন দাঁড়াল, ছাত্ররা যেহেতু তাদের নিয়োগ দিয়েছিল তাই ছাত্রদের বিরুদ্ধে কথা বলবার সাহস কিংবা শক্তিটুকু ইউনূসশাহীদের ছিল না। ফলে ছাত্ররা যখন যা চেয়েছে, তা ইউনূসরা দিয়ে গিয়েছে। ঢাকায় কয়েকটি কলেজে তো পাড়ার মারামারির মতো এক পক্ষ আরেক পক্ষের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট করেছে দফার পর দফা। বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ছাত্ররা যাই করুক, সেটাই বৈধ।

ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে ফায়েদা লুটেছে ইউনূসরা। কেন তারা এই কাজ করেছিল, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দেশের মানুষ জ্ঞাত হবেন।’

তার লেখায় তিনি অনুসন্ধান প্রতিবেদন ‘ইউনূস আমলে ৩ মাসে ৩ হাজার শিক্ষক মবের শিকার, শিক্ষাগুরুর বিভীষিকাকাল’-এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষাগুরুর বিভীষিকাকাল দেরিতে হলেও ইউনূসের অন্ধকার শাসন ব্যবস্থায় দেশের শিক্ষক সমাজদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা নিয়ে আজ বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এটি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন। কারণ ইউনূসশাহীর সময়ে শিক্ষাগুরুদের বিভীষিকাকাল এখনো অনেক শিক্ষকের মনে দাগ কেটে গেছে। এই প্রতিবেদনটি পড়তে গিয়ে চোখের কোণায় জল জমছে। প্রতিটি কেস স্টাডি চোখের সামনে ভাসছে। যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষকরা পড়িয়েছেন, তারাই পিটিয়েছে, শাড়ি টেনেছে, জোর করে কাগজে সই করে নিয়ে পদত্যাগ করিয়েছে। এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল অধ্যাপক ইউনূসরা।যদিও প্রতিবেদনটি কেবলই স্কুল-কলেজ ভিত্তিক, কাছাকাছি ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঘটেছে। চট্টগ্রামের বরণ্যে শিক্ষাবিদ অনুপম সেনকে অপমান করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে সরানোর ঘটনা থেকে শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় ডিনকে পদত্যাগ করানোর ঘটনা ঘৃণাদায়ক। এ ছাড়াও ইউনূসরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি করেছে কেবল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে।

‘এমন মবতন্ত্রের জন্ম দেওয়া সরকারের কাঁধে কয়েক হাজার শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে আমরাই শীর্ষে থাকব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার মাধ্যমে তারা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে ফেলে গিয়েছে। যে মানুষগুলো সারাজীবন শিক্ষা নিয়ে কাজ করল, সেই মানুষগুলো ক্ষমতা পেয়ে ‘শিক্ষার’ ন্যূনতম পরিবর্তনের আগ্রহ দেখায়নি। বরং তারা সংস্কারের গান গেয়ে, নিজেদের মনের কুসংস্কার তাড়াতে পারেননি। দেশে আইনের শাসন পূর্ণরুপে ফিরে এলে, ইউনূস জামানার এই অপরাধগুলোর বিচার হবে। আমাদের মনে রাখা উচিত, শিক্ষকদের সম্মানের নিরাপত্তার বলয় রাষ্ট্র তৈরি করতে না পারলে, সেই রাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম কখনোই শিক্ষার আলোয় পূর্ণতা পায় না।’

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply