Tuesday , 25 August 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
জাপানে ফেলা দুই পারমাণবিক বোমার নাম ‘লিটল বয়’ ও ‘ফ্যাট ম্যান’ রাখা হয় কেন
--ফাইল ছবি

জাপানে ফেলা দুই পারমাণবিক বোমার নাম ‘লিটল বয়’ ও ‘ফ্যাট ম্যান’ রাখা হয় কেন

অনলাইন ডেস্কঃ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম একটি ভয়াবহ দিন আজ। এই দিনটির কথা মনে পড়লে আজও কেঁদে উঠেন জাপানের মানুষ। ১৯৪৫ সালের এই দিনে (৬ আগস্ট) আমেরিকা জাপানের হিরোশিমায় এবং ৩ দিন পর (৯ আগস্ট) নাগাসাকিতে দুটি পারমাণবিক বোমা ফেলে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় দেশটি।

জাপানে আঘাত করা ওই বিধ্বংসী বোমা দুটির নাম ছিল ‘লিটল বয়’ ও ‘ফ্যাট ম্যান’। তবে এত ভয়াবহ অস্ত্রের এমন কৌতুকপূর্ণ নাম কেন রাখা হয়েছিল, তা অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে। আর সেই প্রশ্নের উত্তর জানাতেই আজকের আয়োজন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক—

জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আঘাত করা লিটল বয় ও ফ্যাট ম্যান বোমা দুটি ম্যানহাটন প্রকল্পের অধীনে তৈরি হয়েছিল।

ওই প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন বহু বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী। লিটল বয় ছিল ইউরেনিয়াম-২৩৫ ভিত্তিক বোমা এবং এর গঠন তুলনামূলকভাবে সরল ও সরু। এটি ছিল প্রায় ১০ ফুট লম্বা এবং ২৮ ইঞ্চি ব্যাস বিশিষ্ট। দেখতে ছোট গাড়ির মতো, কিন্তু অনেক পাতলা।
তাই এর নাম রাখা হয় ‘লিটল বয়’।অন্যদিকে ‘ফ্যাট ম্যান’ ছিল প্লুটোনিয়াম-২৩৯ ভিত্তিক পারমাণবিক বোমা। এটি ছিল জটিল নকশার এবং অনেক ভারী। এর ব্যাস ছিল প্রায় ৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ১০.৬ ফুট। ওজন ছিল প্রায় ১০,৩০০ পাউন্ড।

গোলাকার ও বিশাল আকৃতির হওয়ায় এর নাম দেওয়া হয় ‘ফ্যাট ম্যান’। বোমার ডিজাইন ও আকৃতিকে মাথায় রেখেই এই নামকরণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।ম্যানহাটন প্রকল্পে তখনকার বিজ্ঞানীরা বোমাগুলোর নাম রাখার সময় হালকা মেজাজে কাজ করতেন। গোপনীয়তা বজায় রাখতে সহজ, অ-প্রযুক্তিগত ও স্মরণযোগ্য নামের প্রয়োজন ছিল। তাই ‘লিটল বয়’ ও ‘ফ্যাট ম্যান’ নামগুলো শুধু কোডনেম হিসেবেই রাখা হয়েছিল, যার পেছনে কোনো গভীর দার্শনিক বা সামরিক ব্যাখ্যা ছিল না।

কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন, এই নামগুলো তৎকালীন জনপ্রিয় সংস্কৃতি বা মজার চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাখা হয়। যেমন—১৯৪২ সালের একটি হলিউড সিনেমা ‘দ্য থিন ম্যান’ এর নাম থেকেই সম্ভবত ‘লিটল বয়’ এবং ‘ফ্যাট ম্যান’ নামকরণে অনুপ্রেরণা পাওয়া গিয়েছিল।

এই নামগুলোর মাধ্যমে দেখা যায়, বিজ্ঞানীরা এমন ভয়াবহ প্রকল্পের মধ্যেও নিজেদের মানসিক চাপ কমাতে রসবোধের আশ্রয় নিতেন। রবার্ট ওপেনহেইমার ও তার সহকর্মীরা মজা করেই এই নাম দিয়েছিলেন। এটি ছিল এক ধরনের মানসিক চাপ কমানোর কৌশল।

ম্যানহাটন প্রকল্পে ওপেনহেইমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবার্ট সেরবার নামের এক পদার্থবিজ্ঞানী এই নাম দুটি প্রস্তাব করেছিলেন বলে অনেক গবেষক মনে করেন। পরবর্তীতে আমেরিকার অন্যান্য পারমাণবিক অস্ত্রেরও আকর্ষণীয় নাম রাখা হয়, যেমন—‘রাউন্ডফিশ’, ‘হেল্ডা’ ইত্যাদি। সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বোমার নাম ছিল ‘জার বোম্বা’—যা তাদের ইতিহাসে ‘জার’-এর প্রতীক।

যদিও বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রগুলোর নাম সাধারণত মডেল নম্বর বা প্রযুক্তিগত নাম হয় (যেমন: বি৬১, ডব্লিউ৮৮), তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ ধরনের নামকরণ ছিল নজিরবিহীন।

১৯৪৫ সালে আমেরিকা কেবল দুটি পারমাণবিক বোমা প্রস্তুত করেছিল। তৃতীয় বোমা তৈরির প্রক্রিয়া চলছিল, যেটি আগস্টের শেষের দিকে প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। যদি জাপান আত্মসমর্পণ না করত, তবে আরো শহরের ওপর বোমা ফেলার পরিকল্পনা ছিল আমেরিকার।

সূত্র : নিউজ ১৮

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply