জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, ‘জামায়াত আর আওয়ামী লীগ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এ দুই দলের গঠনপ্রক্রিয়া, ইন্টারনাল মেকানিজম এবং রাষ্ট্রকল্প একই ধরনের। দুটি দলই একে অন্যকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার আশঙ্কা আছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত এ রাজনৈতিক দলগুলোর কোনোটির সঙ্গেই এনসিপির যে রাষ্ট্রকল্প, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তার মিল নেই। এ কারণে এনসিপি এ পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে কোনোভাবেই পাশাপাশি চলতে বাধ্য নয়। আমরা নিজেদের জোট গঠনের চেষ্টা করব অথবা আমরা নিজেদের সক্ষমতা এককভাবে এ নির্বাচনেই পরখ করে দেখতে চাই।’
সামান্তা বলেন, ‘আমাদের ইতিহাসের স্টার্টিং পয়েন্ট ১৯৭১। যেটা গণমানুষের কাছ থেকে আওয়ামী লীগ ছিনিয়ে নিয়েছিল। আওয়ামী লীগের হাত থেকে মুক্তিযুদ্ধকে মুক্ত করতে ২০২৪ পর্যন্ত আসতে হয়েছে। এখন আবার জামায়াত ’২৪কে ’৭১-এর মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাইছে। জামায়াত চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগের হয়ে ’৭১কে আবার আমাদের হাত থেকে নিয়ে যাওয়ার। মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাইয়ের প্রেক্ষাপটটা আসলে একই। জনগণের চাওয়াটাও একই। পার্থক্য শুধু এটুকুই যে আমরা বর্তমান নতুন প্রজন্ম ’৭১কে পাই নাই।’
আসন্ন জাতীয় সংসদকেন্দ্রিক নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির এই নেত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতির আগে দেখতে হবে রাষ্ট্রের প্রস্তুতি কেমন? বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, কথাবার্তা এবং যে পলিসি পুরোটাই অসংস্কারকৃত। এ অবৈধ, অসংস্কারকৃত নির্বাচন কমিশন ফ্যাসিজমকে পুনরুজ্জীবিত করবে। এ নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই একটা ফেয়ার ইলেকশন দিতে পারবে না। এটার কোনো নিদর্শন এ কমিশনের নেই। শুধু শাপলা প্রতীক দিয়েই এর উদাহরণ দেওয়া যায়।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর নির্বাচন কমিশনের কয়জন আমলাকে পরিবর্তন করা হয়েছে? কে কে নিয়োগ পেয়েছেন? তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড কী? তারা কার দ্বারা সুপারিশপ্রাপ্ত এবং এখন যারা কাজ করছেন তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম কী? এসব প্রশ্নের সুষ্ঠু উত্তর খুঁজতে হবে। আমরা দেখেছি এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয় নাই। এটা নিয়ে তাদের কোনো উদ্যোগও নেই। একটা অপর্যাপ্ত এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভলি দুর্বল প্রশাসন দিয়ে এ ইসি চালানো হচ্ছে। দলীয়ভাবে আমার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আগে আমাকে জানতে হবে, রাষ্ট্রের প্রস্তুতি কী? তিনটি অবৈধ ইলেকশনের পরে একটি ইলেকশন হতে যাচ্ছে সেটা নিয়ে রাষ্ট্রের প্রস্তুতি কী? আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী পরে দেব।’
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
