অনলাইন ডেস্ক:
ড. ইউনূস ও কয়েকজন উপদেষ্টার দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। দুর্নীতিতে ধরা খাবেন বলে আগেভাগে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এক ফেসবুক লাইভে এসব অভিযোগ তিনি তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ফয়েজ তৈয়্যব ভাই বলেছিলেন, তিনি মুখ খুললে প্যান্ট খুলে যাবে।
তিনি বলেন, ‘উনি একজন ম্যানেজারকে ১০০ কোটি টাকা ছাড়ে ব্যাংক ম্যানেজারকে চাপ দিচ্ছিলেন এবং সেই ব্যাংক ম্যানেজারকে একসময় জবাব দিতে হবে যে তিনি কেন ছাড় দিলেন।
এ ছাড়া প্রকল্পে পদে পদে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছিল দুদক। অপরাধের প্রমাণ পেলেও দুদক অনুসন্ধান ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘দেশের টাকায় অকার্যকর যন্ত্রপাতি’—এটা কালবেলা সংবাদ প্রকাশ করেছিল। আমরা আশা করি ফয়েজ ভিডিওটা দেখবেন এবং চ্যালেঞ্জ করবেন কালবেলা নিউজকে। দেখেন, আমরা পড়ি বিটিসিএল-এর সক্ষমতা বাড়াতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ৫জি উপযোগী বিটিসিএল-এর অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয় এবং বুয়েটের মাধ্যমে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি বা সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করা হয়। এতে খরচ করা হয় প্রায় ২৪ লাখ টাকা। পরে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয়ের তৎপরতা শুরু হয়। সেখানে বুয়েটের রিপোর্ট উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে ৬৫ কোটি টাকার প্রকল্পে ৩২৬ কোটি টাকা ব্যয়ের আয়োজন করা হয়। তবে প্রকল্পটি দুর্নীতির অভিযোগ এলে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে। দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় দুদক প্রকাশ্যে অনুসন্ধান শুরু করলে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
আমজনতার তারেক বলেন, ‘ক্ষমতা পালাবদলে সাবেক উপদেষ্টা, বর্তমান এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের দুর্নীতিতে নাম আসছে, এখানে আরো ধরা খাইছে। ক্ষমতা পালাবদলের সাবেক উপদেষ্টা, বর্তমান এনসিপির আহ্বায়ক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে ফ্যাক্টরি ভিজিটে জিও বাতিল করে তদন্তের উদ্যোগ নেন। নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলে দায়িত্ব নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব। তিনি দায়িত্ব নিয়েই প্রকল্পের কার্যক্রম ফের চালু করেন। এর অংশ হিসেবে দুদকের অনুসন্ধান থামাতে সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে তিনি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি দেন। জিও বাতিল করার পর ফের ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব জিও আবেদন করেন। তবে তা প্রধান উপদেষ্টা দপ্তর থেকে প্রত্যাহার করা হয়। জিও আবেদন করে দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে ফ্যাক্টরি টেস্ট ছাড়াই চীন থেকে মালপত্র আনা হয়। এরপর বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন মাধ্যমে সহ-সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংক ম্যানেজারকে বারবার চাপ দেওয়া হয়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করবেন। ফয়েজ তৈয়্যব সাহেব বিদেশে চলে গেছেন, তিনি দেশে থাকার সাহস করেননি। এই প্রকল্পের কারণে নাকি অন্য দুর্নীতির কারণে আমি জানি না। তবে আমার প্রশ্ন, ফয়েজ তৈয়্যব সাহেব বলেছেন, কথা বললে অনেকের প্যান্ট খুলে যাবে। একজন সৎ মানুষ হলে সেই দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করে না কেন এবং উনি বিদেশে পালিয়ে গেলেন কেন? এসব প্রশ্নের জবাব চাই।’
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
