Thursday , 25 June 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২
নিহত কুদ্দুস মিয়া মরদেহ, স্বজনরা রাস্তায় বিক্ষোভ করে। ছবি সংগৃহীত

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন—হাফেজীবাগ এলাকার প্রয়াত সাদেক আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৭০) এবং শাহী মসজিদ এলাকার প্রয়াত আব্দুল জলিল মুন্সির ছেলে মেহেদী হাসান (৪২)। শনিবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে শাহী মসজিদ ও সিরাজদৌল্লাহ্ ক্লাব মাঠ এলাকায় পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর রেললাইন এলাকায় একটি অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হান্নান সরকারের অনুসারী বাবু—মেহেদী গ্রুপ এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসারের অনুসারী রনি—জাফর গ্রুপের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল।

এর জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড দুটি সংঘটিত হয়। প্রথমে জাফর পক্ষের সমর্থক পারভেজের বাবা আব্দুল কুদ্দুসকে তার দোকান থেকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিশোধ নিতে রনি—জাফর পক্ষের লোকজন সিরাজদৌল্লাহ্ ক্লাব মাঠের সামনে মেহেদী হাসানকে ধরে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মেহেদীর বোনের স্বামী মাহফুজুল সৌরভ জানান, “মেহেদী ঘটনার সময় আমিন আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় ছিল।

কুদ্দুস হত্যার পর প্রতিপক্ষ তাকে রাস্তায় পেয়ে তুলে ক্লাব মাঠে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।” এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয়পক্ষের লোকজন গা—ঢাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দর রেললাইন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির নেতা আবুল কাউসার আশা বলেন, “রনি ও মেহেদী ছাত্রদলের সময় থেকে একসঙ্গে রাজনীতি করত। তবে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা ও স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যে গত ছয় মাস ধরে টানাপোড়েন চলছিল। এই ঘটনায় আমার বা হান্নান সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

আমাদের রাজনৈতিকভাবে জড়ানো হচ্ছে।” তবে অভিযুক্ত হান্নান সরকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বা খুদে বার্তার জবাব দেননি। এদিকে, রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, “স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কেউই ছাড় পাবে না। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, আরও অভিযান চলছে।”বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, “ছুরিকাঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন। দুটি পৃথক হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।” এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply