বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ
স্বপ্নের ডানায় ভর করে শত অভাব—অনটনের মাঝেও যে ছেলেটি এগিয়ে গেছে, তার নাম মাজারুল ইসলাম। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পশ্চিম আঠারো পাইকার সন্তান মাজারুলের গল্পটা শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয় — এটি হাজারো প্রত্যন্ত গ্রামবাংলার সংগ্রামী তরুণদের প্রতিচ্ছবি। কৃষিপণ্য (কুলা, ডালি) বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন তার বাবা শাহাবুদ্দীন। কিন্তু বয়সের ভার ও রোগ—শোকে এখন আর উপার্জনের ক্ষমতা নেই তার। মা লাইলী বেগমও অসুস্থ। তিন ভাইবোনের মধ্যে মাজারুল সবচেয়ে ছোট। নবম শ্রেণি থেকেই শুরু হয় তার আত্মনির্ভরতার যাত্রা। টিউশনি করে চালিয়েছেন নিজের লেখাপড়া।
এসএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে পাড়ি জমান কুড়িগ্রাম শহরে। সেখানে কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি চালিয়ে যান টিউশনি। চান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, কিন্তু কোচিং করার মতো টাকা নেই। বর্ণ এডমিশন কেয়ারে অর্ধেক বৃত্তি পেলেও বাকি টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারেননি। পুরনো বই, সাহস আর শ্রমই ছিল তার মূল সম্বল। অবশেষে সেই অদম্য মাজারুল গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
মেধা তালিকায় তার অবস্থান ২৯১৩তম। প্রথম মেরিটেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেই পুরনো সঙ্গী — অর্থাভাব। ভর্তির ফি, যাতায়াত ও থাকা—খাওয়ার খরচ জোগানোর কোনো উপায় নেই তার পরিবারের। হতাশায় ডুবে মাজারুল বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও যদি ভর্তি হতে না পারি, তাহলে কষ্ট করে গড়া সব স্বপ্নই ভেঙে যাবে।
এভাবেই হয়তো আমাদের মতো অনেকেই টাকার কাছে হেরে যায়।” বর্তমানে তিনি ঢাকায় কাজ খুঁজছেন, যাতে কিছু অর্থ জমিয়ে ভর্তি হতে পারেন। কিন্তু সময় খুবই অল্প। মাজারুলের এই স্বপ্ন বাঁচাতে এখনই এগিয়ে আসতে হবে সমাজের হৃদয়বান মানুষদের। আপনার সামান্য সহযোগিতায় বদলে যেতে পারে একজন তরুণের ভবিষ্যৎ।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
