ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ভাগ্নে পিল্লু কমিশনারের ছত্রছায়ায় বিগত সরকারের আমলে পল্লী বিদ্যুতের চোরাই তারের ব্যবসা করতেন সোহাগ। চোরাই তার কিনে অ্যালমুনিয়ামের ফ্যাক্টরিতে বিক্রি করতেন।
তিনি আরো বলেন, ঘটনা চলাকালে ৯৯৯ এর মাধ্যমে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি চকবাজার পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করলে ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক সরোয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, অভিযুক্তরা একটি মবের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনার এজাহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হলো— মামলার এজাহার দায়েরের জন্য প্রথমে তার সাবেক স্ত্রী লাকি আক্তার থানায় আসে। কিছুক্ষণের মধ্যে ভুক্তভোগীর সৎ ভাই রনিও থানায় আসে। তারা নিজেদের মধ্যে সলাপরামর্শ করে ২৩ জনকে আসামি করে একটি খসড়া এজাহার প্রস্তুত করে। এর মধ্যে ভুক্তভোগীর আপন বড় বোন মঞ্জু আরা বেগম থানায় এসে এজাহার দাখিলের আগ্রহ প্রকাশ করে। তখন তার সামনে পূর্বের খসড়া এজাহার উপস্থাপন করা হয়। তখন বাদীর মেয়ে ওই খসড়া এজাহারের ছবি তুলে রাখে। যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভুগীর বোন ওই খসড়া এজাহার থেকে ৫ জনের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে আরো একজনের নাম সংযোজন করে মোট ১৯ জনকে আসামি করে এজাহার দাখিল করে।
তিনি আরো বলেন, এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব। এই ধরনের জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেজন্য অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ, লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
